ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন বলেছেন, যে আসনে আপনারা কয়েক দিন আগে আলমগীর স্যারকে (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) ভোট দিয়েছিলেন, সেই আসন থেকেই নির্বাচিত হয়ে তিনি মন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে ভুল্লী-রুহিয়াকে উপজেলা করেছেন। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব বরাদ্দ দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে গেছেন। এখন ওনার (রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) কাজগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এই কাজগুলো করার জন্য আপনাদেরকে একজন নেতা তৈরি করতে হবে, এমপি তৈরি করতে হবে। বিরোধীদল কি পারবে? আমি আপনাদের কাছে এসেছি আমাকে ভোট দিয়ে সাহায্য করুন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, আপনারা সবাই কৃষির সঙ্গে জড়িত। আপনাদের এখানে সারের সমস্যা আছে। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, আমি প্রথম সংসদে গিয়ে আপনাদের এই সারকে খোলা বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করে দেবো। এটা করলেই কৃষকের আর কোনো সমস্যা থাকবে না। আলমগীর স্যার (রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে গেছেন। এই নতুন প্রজেক্ট, এলাকাগুলোতে ঘুরছি রাস্তাগুলোতে যাওয়া যাচ্ছে না। এ রাস্তাগুলো পাকা করতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে রাস্তাগুলো পাকা করে দেবো।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের এলাকার মন্দিরে আলমগীর স্যার ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এরপরে আরও অনেক বরাদ্দ আসবে। আপনারা হিন্দু-মুসলিম আমাদের বাংলাদেশের সবাই আমরা মিলেমিশে সুন্দরভাবে থাকতে চাই। আমাদের জীবনকে আরও উন্নত করতে চাই। আমরা নাগরিক সুবিধাগুলো চাই। আমরা এ দেশের নাগরিক। আমরা কারো সঙ্গে কারো ভেদাভেদ রাখবো না। এটা আমার ইসলামেও বলে, সব ধর্মেই বলে। আমরা মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ রাখবো না। সবাই সমান ভাবে থাকবো। আপনাদের হাসিখুশি দেখলে আমার মনটা ভরে যায়। আপনাদেরকে আমি সবসময় হাসিমুখে দেখতে চাই।
মির্জা ফয়সল বলেন, এলাকার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক। আমি যদি নির্বাচিত হই, তাহলে ঠাকুরগাঁও থেকে মাদক নির্মূল করা হবে, এমন আস্থা কি আপনাদের আছে? আপনারা কি এটা বিশ্বাস করেন? ঠাকুরগাঁওয়ে যারা মাদক ব্যবসা করেন, যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের অনুরোধ করব, ২৯ তারিখের পর এই ব্যবসা ছেড়ে চলে যান। যদি এই ব্যবসা না ছাড়েন, তাহলে আপনাদের যে পরিণতি হবে, তার জন্য আপনারাই দায়ী থাকবেন।
তিনি বলেন, আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, মাদক বন্ধ করতে হবে। আর আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, আমি মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করব। আপনাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ঠাকুরগাঁওয়ের আগামী ভবিষ্যৎ।
বিএনপির এই নেতা বলেন। শহরের চারপাশ দিয়ে একটি রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সড়ক বাইপাস হিসেবে কাজ করবে এবং প্রত্যেকটি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখবে। ঠাকুরগাঁওকে সাজানোর স্বপ্ন আছে আমার। ঠাকুরগাঁওকে একটি অপূর্ব সুন্দর নগরী হিসেবে দেখতে চাই আমরা। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন শহর গড়ে তুলতে চাই। সিদ্ধান্ত এখন জনগণের হাতে। তারা উন্নয়ন চান, নাকি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হোক সেটি তাদেরই ঠিক করতে হবে।
রেদওয়ান মিলন/এএমকে