নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বেগমগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে কামরুল হাসান নামের এক তরুণকে গুলি করে তার ব্যবহৃত জিক্সার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে, সোনাইমুড়ীতে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তদের গুলিতে জামাল উদ্দিন নামের এক প্রবাসফেরত বৃদ্ধ আহত হয়েছেন। বর্তমানে দুজনেই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকালে বেগমগঞ্জের আলাইয়াপুর এবং রাতে ১০টার দিকে সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর ইউনিয়নে এসব হামলা চালায় অস্ত্রধারীরা।
বেগমগঞ্জের বড় নেওয়াজপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া প্রথম ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন পেশায় দর্জি কামরুল হাসান। তিনি চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন এবং কিছুদিন আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন।
স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শনিবার বিকালে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে নুরু নামের এক ব্যক্তি কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তার বুকের ডান পাশে ও ডান বাহুতে গুলি লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অপরদিকে, একই দিন রাতে সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামে ঘটে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্থানীয় বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা জামাল উদ্দিন (৬০) নামের এক প্রবাসফেরত বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হেলমেট পরা দুই দুর্বৃত্ত। কালো পোশাকে মোটরসাইকেলে আসা ওই হামলাকারীরা ঘটনা ঘটিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন। তার একাধিক ছেলে বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরাজ হোসেন জানান, গুলিবিদ্ধ দুজনেই নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত, তবে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় পাঠানো হবে। চলতি মাসে নোয়াখালীতে মোট চারটি গুলির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় মামলা বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, দুটি গুলিবর্ষণের ঘটনাই অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি খোসা উদ্ধার করেছে। পুলিশ ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলে বক্তব্য নিয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের মুখ ঢাকা থাকলেও বিভিন্ন ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, নোয়াখালীতে যারা অস্ত্র ব্যবহার বা অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে—নোয়াখালী জেলা পুলিশ তাদের কোনোভাবেই ছাড়বে না এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। চলতি মাসে বেশ কয়েকটি গুলির ঘটনা ঘটেছে, যার সবগুলোর উপাত্ত নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং কিছু নামও পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই অপরাধীরা গ্রেপ্তার হবে এবং শাস্তি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
