আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটু আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখা…আর তারপরই সব শেষ! পুজোর আনন্দের মাঝেই এক পরিবারের জীবনে নেমে এল গভীর অন্ধকার। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না বিষ্ণুপুরের এগারো গ্রামের তরুণী স্নেহা ভাণ্ডারীর।
শনিবার বোন নেহা এবং আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন স্নেহা। পরিকল্পনা ছিল, রবিবার পরিবারের সঙ্গে পুজোর আনন্দে সামিল হবেন। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা বদলে শনিবারই বেরিয়ে পড়েন তিনি।
সেই সময় মা ছিলেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। মেয়েই জোর করে মাকে পাঠিয়েছিল একটু ঘুরে আসার জন্য। মা সবসময় বলতেন, পুজোর সময় কোথাও ঘুরতে যাও না কেন! কে জানত, মায়ের সেই কথার উত্তর দিতে গিয়েই নিজের জীবনের শেষ যাত্রায় বেরিয়ে পড়ছে মেয়ে!
বাড়ি থেকে বেরোনোর পথে মাকে শেষবারের মতো ফোন করেছিলেন স্নেহা। জানিয়েছিলেন, বাবা খেয়ে নিয়েছেন, তিনি ঠাকুর দেখতে যাচ্ছেন। মায়ের উত্তর ছিল, “সাবধানে যাস।”
মায়ের সেই আশীর্বাদভরা কথাটাই যে শেষ কথা হয়ে থাকবে, তা কি আর জানতেন কেউ?
এরপরই এল সেই দুঃসংবাদ। ছোট মেয়ের ফোনে মা জানতে পারলেন, তাঁর বড় মেয়ে স্নেহা আর নেই। মুহূর্তের মধ্যে পুজোর সমস্ত আনন্দ মুছে গিয়ে নেমে এল শোকের ছায়া।
স্নেহা ছিলেন কম্পিউটার প্রশিক্ষক। কর্মস্থলে তাঁকে সবাই ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেন। মেয়ের সেই পরিচয়েই গর্ব বোধ করতেন মা। আজ সেই মেয়েই আর ফিরবে না বাড়িতে, আর কেউ ‘ম্যাডাম’ বলে ডাকবে না তাঁকে।
কাঁদতে কাঁদতে মায়ের মুখে শুধু একটাই আক্ষেপ— “ম্যাডাম আর ফিরবে না…”
যে মেয়েকে ঘিরে ছিল কত স্বপ্ন, কত আশা, সেই মেয়ের ফেরার অপেক্ষা আজ চিরদিনের জন্য শেষ।
বিষ্ণুপুরের এগারো গ্রামের বাড়িতে এখন আত্মীয়-প্রতিবেশীদের ভিড়। চারদিকে কান্না, শোক আর অবিশ্বাস। পুজোর আলো জ্বলছে শহরজুড়ে, মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ভিড়। অথচ স্নেহার বাড়িতে আজ শুধুই শূন্যতা।
ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিল মেয়েটা, কিন্তু মায়ের কাছে আর ফেরা হলো না। পুজোর আনন্দের মাঝেই এক মায়ের বুক খালি করে চিরবিদায় নিল স্নেহা ভাণ্ডারী।
