শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে দেশের সঙ্গে যুক্ত, সেই দেশ কি বাস্তবেও শান্তিপূর্ণ? নাকি শান্তির জন্য নোবেল পাওয়া আর একটি দেশের বর্তমান শান্তিশৃঙ্খলা- দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শান্তিতে নোবেলজয়ীদের তালিকা এবং ২০২৬ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের (জিপিআই) তথ্য পাশাপাশি রাখলে এ প্রশ্নের উত্তর বেশ চমকপ্রদ।
জিপিআই বিশ্বের ১৬৩টি দেশকে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, চলমান সংঘাত এবং সামরিকীকরণ- এই তিনটি প্রধান মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে।
তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত শান্তিতে মোট ১০৬টি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তি ও সংগঠন মিলিয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত লরিয়েট ১৪৩ জন।
তাদের সবাইকে সরাসরি কোনো একটি দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে।
দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৬ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্স এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের চিত্রের ভিত্তিতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে।
ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো
যুক্তরাষ্ট্র: থিওডোর রুজভেল্ট, উড্রো উইলসন, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, বারাক ওবামা-সহ একাধিক নোবেলজয়ীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাম রয়েছে। দেশটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও ২০২৬ সালের জিপিআইতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৩৪তম। রাজনৈতিক মেরুকরণ, অস্থিরতা ও সহিংসতার বিভিন্ন সূচকে উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্য: উইলিয়াম র্যান্ডাল ক্রেমার, জোসেফ রটব্লাট-সহ একাধিক নোবেলজয়ীর সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক রয়েছে। সামগ্রিকভাবে যুক্তরাজ্য স্থিতিশীল এবং বর্তমানে বড় কোনো যুদ্ধের মধ্যে নেই।
ফ্রান্স: ফ্রেদেরিক পাসি, লেয়ঁ বুর্জোয়া ও অ্যারিস্তিদ ব্রিয়াঁ-সহ একাধিক শান্তিতে নোবেলজয়ী ফ্রান্সের। দেশটি যুদ্ধরত না হলেও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় বিক্ষোভ, সামাজিক অস্থিরতা ও সামরিকীকরণের মাত্রা বেশি।
জার্মানি: গুস্তাভ স্ট্রেসেমান, কার্ল ফন অসিয়েটস্কি ও ভিলি ব্রান্ট-সহ একাধিক নোবেলজয়ীর সঙ্গে জার্মানি যুক্ত। দেশটি বর্তমানে অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং জিপিআইতেও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ড: অঁরি দুনাঁ (Henry Dunant), এলি দুকোম্যাঁ (Élie Ducommun) ও শার্ল আলবেয়ার গোবা-সহ (Charles Albert Gobat) শান্তিতে নোবেলজয়ীদের সঙ্গে দেশটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সুইজারল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ এবং ২০২৬ সালের জিপিআইতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
নরওয়ে: ক্রিস্টিয়ান লাঙ্গে ও ফ্রিদতিয়ফ নানসেন-সহ একাধিক নোবেলজয়ীর সঙ্গে নরওয়ের নাম জড়িত। দেশটি অত্যন্ত স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ।
সুইডেন: ইয়ালমার ব্রান্টিং ও আলভা মিরদাল-সহ একাধিক নোবেলজয়ী সুইডেনের। দেশটি সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিকীকরণ বেড়েছে।
ফিনল্যান্ড: মার্তি আহতিসারির দেশ ফিনল্যান্ড। ২০২৬ সালের জিপিআইতে নবম অবস্থানে থাকা দেশটি বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র।
আয়ারল্যান্ড: শান্তি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নোবেলজয়ীর দেশ আয়ারল্যান্ড- শন ম্যাকব্রাইড, বেটি উইলিয়ামস, মাইরেড ম্যাগুইয়ার, জন হিউম ও ডেভিড ট্রিম্বল। ২০২৬ সালের জিপিআইতে পঞ্চম অবস্থানে থাকা দেশটি বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র।
অস্ট্রিয়া: বের্থা ফন সুটনার এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সম্পর্ক রয়েছে অস্ট্রিয়ার। ২০২৬ সালের জিপিআইতে দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ; অর্থাৎ এটি বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল
জাপান: এইসাকু সাতো এবং নিহন হিদানকিও-এর সঙ্গে জাপানের নাম শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে। ২০২৬ সালের জিপিআইতে দশম অবস্থানে থাকা দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে অত্যন্ত স্থিতিশীল।
কানাডা: লেস্টার বি. পিয়ারসন-এর মাধ্যমে কানাডা শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দেশটি সামগ্রিকভাবে অত্যন্ত স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়া: ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন)-এর সঙ্গে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সম্পর্ক রয়েছে। দেশটি সামগ্রিকভাবে অত্যন্ত স্থিতিশীল।
ভারত: কৈলাশ সত্যার্থীর মাধ্যমে ভারত শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। ভারত বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক যুদ্ধে সরাসরি জড়িত নয়; তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সংঘাত ও বিভিন্ন সহিংসতার সমস্যা রয়েছে। ২০২৬ সালের জিপিআইতে ভারতের অবস্থান ১২৭তম।
পাকিস্তান: মালালা ইউসুফজাই পাকিস্তানের হয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী। দেশটিতে নিরাপত্তা সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ ও সশস্ত্র সংঘাত রয়েছে। ২০২৬ সালের জিপিআইতে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫২তম।
বাংলাদেশ: মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দেশে বড় কোনো আন্তর্জাতিক যুদ্ধ নেই; তবে রাজনৈতিক সহিংসতা, অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
চীন: লিউ শিয়াওবো-র মাধ্যমে চীন শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। বড় আকারের আন্তর্জাতিক যুদ্ধ না থাকলেও রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে।
ইরান: শিরিন এবাদি ও নার্গেস মোহাম্মাদি শান্তিতে নোবেলজয়ী। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং আঞ্চলিক সংঘাতে সম্পৃক্ততার কারণে দেশটির শান্তির সূচক দুর্বল।
ইরাক: নাদিয়া মুরাদ-এর মাধ্যমে ইরাক শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ যুদ্ধের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
ইয়েমেন: তাওয়াক্কোল কারমান-এর মাধ্যমে ইয়েমেন এই তালিকায় রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের জিপিআইতে ইয়েমেনের অবস্থান ১৫৬তম।
দক্ষিণ কোরিয়া: কিম দে-জুং-এর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দেশটি নিজে যুদ্ধে নেই, তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
ফিলিপাইন: মারিয়া রেসা-র মাধ্যমে ফিলিপাইন এই তালিকায় রয়েছে। দেশটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা সমস্যা রয়েছে।
আফ্রিকার দেশগুলো
দক্ষিণ আফ্রিকা: আলবার্ট লুথুলি, ডেসমন্ড টুটু, নেলসন ম্যান্ডেলা ও এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক-সহ একাধিক নোবেলজয়ীর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। বর্তমানে দেশটি বড় কোনো যুদ্ধে নেই। তবে গুরুতর অপরাধ, সহিংসতা ও সামাজিক বৈষম্য এখনো বড় সমস্যা।
লাইবেরিয়া: এলেন জনসন সারলিফ ও লেমাহ গবওয়ি-র মাধ্যমে লাইবেরিয়া শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। গৃহযুদ্ধের সময়ের তুলনায় দেশটি এখন অনেক শান্ত। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
ইথিওপিয়া: আবিয় আহমেদ-এর মাধ্যমে ইথিওপিয়া শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। শান্তিচুক্তির পরও দেশটিতে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে এবং জিপিআইতে অবস্থান দুর্বল।
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো): ডেনিস মুকওয়েগে-র মাধ্যমে দেশটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাতের কারণে ডিআর কঙ্গো বিশ্বের অন্যতম সংঘাতপূর্ণ দেশ।
মিশর: আনোয়ার সাদাত ও মোহাম্মদ এলবারাদেই-র মাধ্যমে মিশর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে বড় ধরনের গৃহযুদ্ধ নেই; তবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও সংঘাতপ্রবণ দেশ
রাশিয়া: মিখাইল গর্বাচভ, মেমোরিয়াল এবং দিমিত্রি মুরাতভ-এর মাধ্যমে রাশিয়া শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৬ সালের জিপিআইতে রাশিয়া বিশ্বের সর্বনিম্ন শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে ১৬৩তম অবস্থানে রয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এর অন্যতম প্রধান কারণ।
ইউক্রেন: সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ-এর মাধ্যমে ইউক্রেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২৬ সালের জিপিআইতে দেশটির অবস্থান ১৬০তম।
বেলারুশ: আলেস বিয়ালিয়াতস্কি-র মাধ্যমে বেলারুশ শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন রয়েছে। ২০২৬ সালের জিপিআইতে দেশটির অবস্থান ১১৫তম।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলো
কলম্বিয়া: হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস-এর মাধ্যমে কলম্বিয়া শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিনের গৃহসংঘাত অনেকটাই কমেছে; তবে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতা ও নিরাপত্তা সমস্যা এখনো রয়েছে।
তিউনিসিয়া: তিউনিসিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন, তিউনিসিয়ান কনফেডারেশন অব ইন্ডাস্ট্রি, ট্রেড অ্যান্ড হ্যান্ডিক্রাফটস, তিউনিসিয়ান হিউম্যান রাইটস লীগ ও তিউনিসিয়ান অর্ডার অব লইয়ার্স-এর মাধ্যমে তিউনিসিয়া শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দেশটিতে কোনো বড় যুদ্ধ নেই; তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ভেনেজুয়েলা: মারিয়া কোরিনা মাচাদো-র মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। তবে দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
গুয়াতেমালা: রিগোবার্তা মেনচু তুম-র মাধ্যমে গুয়াতেমালা শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও অপরাধ, দারিদ্র্য ও সামাজিক সহিংসতা এখনো বড় সমস্যা।
আর্জেন্টিনা: কার্লোস সাভেদ্রা লামাস ও অ্যাডল্ফো পেরেজ এস্কুইভেল-এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনা শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে দেশটি কোনো যুদ্ধে নেই এবং তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ।
মেক্সিকো: আলফোনসো গার্সিয়া রোবেলস-এর মাধ্যমে মেক্সিকো শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত। দেশটি কোনো আন্তর্জাতিক যুদ্ধে নেই; তবে সংগঠিত অপরাধ, মাদক-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা ও উচ্চ হত্যার হার গুরুতর সমস্যা।
২০২৬ সালের জিপিআই অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ আইসল্যান্ড। এরপর নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়, সুইজারল্যান্ড তৃতীয়, স্লোভেনিয়া চতুর্থ, আয়ারল্যান্ড পঞ্চম, অস্ট্রিয়া ষষ্ঠ এবং ফিনল্যান্ড নবম। জাপানের অবস্থান দশম।
অমিয়/
