নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে নিজের মুদি দোকান ও জমি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন মতব্বির হোসেন (৫০)। স্বপ্ন ছিল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশ গ্রিসে পৌঁছানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। লিবিয়ার গানপুদা কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ পরিবার। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন স্ত্রী ফিরোজা বেগম।
মতব্বির হোসেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা গ্রামের মৃত আওর বখতের ছেলে। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। গত বুধবার তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন তাঁর ভগ্নিপতি আবু তালেব।
পরিবারের বরাতে আবু তালেব জানান, প্রায় চার মাস আগে জীবিকার সন্ধানে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মুদি দোকান ও ২০ শতাংশ জমি ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করেন মতব্বির। পরে স্থানীয় একটি মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় যান তিনি। সেখান থেকে নৌপথে গ্রিসে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
আবু তালেব জানান, গত চার মাসে তিনবার নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করেন মতব্বির। তবে প্রতিবারই ব্যর্থ হন। সর্বশেষবার গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টাকালে লিবিয়ার পুলিশের হাতে আটক হয়ে গানপুদা কারাগারে যান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মতব্বির আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। দেশে থাকাকালে তাঁর বাইপাস অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় হৃদরোগের জটিলতা বেড়ে গেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে লিবিয়ার আলফা মিথিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। তবে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মতব্বিরের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাঁর এক ছেলের বয়স মাত্র নয় বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাঁর পরিবার। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্ত্রী ফিরোজা বেগম।
স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ করে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মতব্বিরকে বিদেশে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উন্নত জীবনের আশায় সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমানো মতব্বিরের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে। পরিবারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে।
