রাজ্যে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি উচ্চশিক্ষা দফতরের। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ়ামিনেশন বোর্ডের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি ও ফার্মাসি কোর্সে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে ৭৫.৪ শতাংশ। অন্য দিকে, রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ডিগ্রি কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে ভর্তির হার বেড়েছে ৪৯.৯ শতাংশ।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন। জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের মাধ্যমে পরিচালিত ভর্তি প্রক্রিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দুই ক্ষেত্রেই ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পড়ুয়া ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের মাধ্যমে ২০২৫ সালে মোট ১৫ হাজার ৭২৯ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৫৯৯। অর্থাৎ, এক বছরে ১১ হাজার ৮৭০ জন বেশি পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন। বৃদ্ধির হার ৭৫.৪ শতাংশ।
২০২৬ সালের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ১৬ হাজার ৪০৯ জন এবং বিকেন্দ্রীভূত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ১১ হাজার ১৯০ জন ভর্তি হয়েছেন। পরিসংখ্যানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া ২১৫৬ জন পড়ুয়া পরে বিকেন্দ্রীভূত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আসন উন্নীত করার সুযোগ পেয়েছেন।
অন্য দিকে, রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ডিগ্রি কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রেও বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। উচ্চশিক্ষা দফতরের কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি পোর্টাল এবং বিকেন্দ্রীভূত ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৫ সালে মোট ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৬৯২ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ৯২ হাজার ২২৭। অর্থাৎ, এক বছরে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৫৩৫ জন বেশি পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন। বৃদ্ধির হার ৪৯.৯ শতাংশ।
২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি হয়েছেন ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৩১ জন পড়ুয়া। অন্য দিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিজিটাল অ্যাডমিশন পোর্টাল-এর মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ২৯৬ জন।
উল্লেখ্য, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের মাধ্যমে মূলত স্নাতক স্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি ও ফার্মাসি কোর্সে ভর্তি করা হয়। অন্য দিকে, উচ্চশিক্ষা দফতরের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ডিগ্রি কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরের বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই দুই ব্যবস্থাতেই আগের বছরের তুলনায় ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।
