প্রথম বিয়ের কথা গোপন করেছিলেন স্বামী। সেই খবর জেনে যান দ্বিতীয় স্ত্রী। এ নিয়ে তার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে পরিকল্পনা করেন খুনের। ঘোরানোর কথা বলে সাম্পানে তুলে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ভাসিয়ে দেন খালে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দি এক নারীর লাশ উদ্ধারের তদন্তে নেমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। তাদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মামলার প্রধান আসামি নিহতের স্বামী রাজা মিয়া এখনো গ্রেপ্তার হননি।
নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসের বয়স ২৮ বছর। তিনি একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে চাঁন্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল বেপারিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
পিবিআই বলছে, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন জান্নাতুল। রাজা নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিলেও পরে তার আগের বিয়ের কথা জানতে পারেন জান্নাতুল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধ থেকেই রাজা মিয়া তার পূর্ব পরিচিত মো. মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই। পিবিআইয়ের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘোরানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা। সেখানে একটি সাম্পানে অপেক্ষা করছিলেন মুসলিম উদ্দিন, শুক্কুর আহমদ ও আরেক ব্যক্তি।
সাম্পানে করে তারা কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে যান। রাত ৮টার দিকে রাজা ও জান্নাতুলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জান্নাতুলের মুঠোফোন খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় শিকলবাহা খালে, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস লিমিটেডের পেছনের অংশে।
হত্যার পাঁচ দিন পর, ২ আগস্ট দুপুরে শিকলবাহা খালের লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে বস্তাবন্দী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ-পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ৩ আগস্ট জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাজা মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে ৬ অক্টোবর মামলাটি পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোতে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আবদুর রহিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে টেকনাফ এলাকা থেকে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় শুক্কুর আহমদকে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পানটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর মুসলিম উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শুক্কুর আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
The post প্রথম বিয়ের কথা ফাঁস, দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুন করে খালে ভাসিয়ে দেন স্বামী appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
