রিয়াল মাদ্রিদ দেখাল, কেন তারা রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত যে স্কোরলাইন ছিল রোমা ৩-১ রিয়াল, সেই ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরলাইন ৩-৪!
৮৩ থেকে ৯০, মাত্র এই সাত মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে রোমার জয়ের আশা বরবাদ করে দেয় রিয়াল। কার্লোস এসপি, এনদ্রিক ও আন্তোনিও রুডিগারের গোলে অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল জোসে মরিনিওর দল।
স্কোর লাইনের কোথাও আর্দা গুলারের নাম না থাকলেও তার্কিশ এই উইঙ্গারই এই ম্যাচের মূল নায়ক। রিয়ালের শেষের ৩ গোল আসে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায়। ফলে, সাবেক ক্লাব রোমার মাঠে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্পের সাক্ষী হয়ে গেলেন পর্তুগিজ কোচ মোরিনিও।
এমবাপের মাইলফলক, তবু এগিয়ে রোমা
ম্যাচের আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবর ধাক্কা দিয়েছিল রিয়ালকে। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার কারণে লা লিগায় শাস্তি পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে রোমার বিপক্ষে মরিনিও তাঁকে একাদশেই রেখেছিলেন।
রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় ম্যাচ শুরুর আগে গ্যালারিতে নজর কাড়ে বিশাল এক ব্যানার। তাতে রোমার হয়ে কনফারেন্স লিগ জয়ের স্মৃতি তুলে ধরে ট্রফি হাতে মরিনিওকে দেখানো হয়। ইতালিয়ান ক্লাবটির কোচ হিসেবে তিন বছরের সফল অধ্যায় ছিল তাঁর।
চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচে গোল করে নতুন রেকর্ডও গড়েন ফরাসি তারকা। ২৭ বছর বয়সে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় শততম ম্যাচ খেলা সবচেয়ে কমবয়সী ফুটবলার হলেন এমবাপে। এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমার বিপক্ষেই ২৮ বছর বয়সে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন লিওনেল মেসি।
খেলার শুরুতে ইয়ান দিয়োমান্দে ভালো একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ১৭ মিনিটে চোটের কারণে মানু কোনেকে তুলে নিতে বাধ্য হয় রোমা। তবে তাতে স্বাগতিকদের ছন্দে ছেদ পড়েনি। তিন মিনিট পরই দে রুনের গোলে এগিয়ে যায় তারা।
রিয়ালের ভুলে বলের দখল পেয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে রোমা। মাতিয়াস সুলে বল বাড়িয়ে দেন দে রুনকে। তাঁর বাঁ পায়ের জোরালো শট রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার্সকে পরাস্ত করে। শটটি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢোকে।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন মালেন। কিন্তু তাঁর ব্যর্থতার খেসারত দিতে হয় স্বাগতিকদের। ২৫ মিনিটে দিয়োমান্দের হেড থেকে বল পেয়ে মারিও হেরমোসোকে সহজেই কাটিয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করেন এমবাপে। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচে গোল করে নতুন রেকর্ডও গড়েন ফরাসি তারকা। ২৭ বছর বয়সে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় শততম ম্যাচ খেলা সবচেয়ে কমবয়সী ফুটবলার হলেন এমবাপে। এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমার বিপক্ষেই ২৮ বছর বয়সে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন লিওনেল মেসি।
মালেনের জোড়া গোলে চাপে রিয়াল
দ্বিতীয়ার্ধে সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রোমা। ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের একটি ফ্লিক প্রতিপক্ষের পায়ে চলে গেলে দ্রুত আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকেরা। রদ্রিগো মোরার পাস থেকে বল পেয়ে কোর্তোয়ার্সকে পরাস্ত করেন মালেন।
এরপর ৫৭ মিনিটে সুলের একটি পাস রিয়ালের রক্ষণভাগ ভেঙে দেয়। সেই সুযোগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রোমাকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মালেন। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলায়।
এরপরই ভিনিসিয়ুসকে তুলে এন্দ্রিককে মাঠে নামান মরিনিও। রিয়াল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালালেও বেশ কিছুক্ষণ গোলের দেখা পায়নি। এমবাপের পরপর দুটি শট ঠেকিয়ে দেন রোমার গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোল্লিনি।
শেষ সাত মিনিটে তিন গোল
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে আরদা গুলারের কর্নার থেকে এন্দ্রিকের হেড গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল থেকে গোল করেন কার্লোস এস্পি। তাতে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২।
এর দুই মিনিট পর গুলেরের কর্নার থেকে হেডে গোল করে রিয়ালকে সমতায় ফেরান এন্দ্রিক। শেষ মুহূর্তে তখন ম্যাচের ভাগ্য যে কারও দিকে যেতে পারত। কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্ক বাকি ছিল আরও। যোগ করা সময়ে গুলেরের আরেকটি সেট পিস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান আন্তোনিও রুডিগার। তাঁর গোলেই দুই গোলের ঘাটতি পেরিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।
