সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সৌদি আরবের আত্মরক্ষার সহজাত অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এক প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়। এতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে।
আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ১০ ও ১১ অক্টোবর রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে চালানো হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা এসব হামলাকে বেপরোয়া উল্লেখ করে বলেন, হামলায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলা ও হুমকিরও নিন্দা জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ২০১৫ সালের এপ্রিলে গৃহীত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২১৬ নম্বর প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হুথিদের কাছে অস্ত্র, প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন পৌঁছানো বন্ধে ইয়েমেন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ। নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিষয়ে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইয়েমেনের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির সরকারকে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। সহিংসতা বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইয়েমেনে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গের প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে পরিষদ। ইয়েমেনিদের নেতৃত্ব ও মালিকানায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা
১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশ, মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি ছিলেন।
১১ অক্টোবরের হামলায় সৌদি আরবে বসবাসরত একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন। এর আগে ৮ অক্টোবর একই বিমানবন্দরে হামলায় একজন পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়।
এ ছাড়া ৬ ও ৭ অক্টোবর আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় আলজেরিয়া ও মরক্কোর দুই নারী নিহত এবং ২৮ জন আহত হন। একই সময়ে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরেক হামলায় সুদানের একজন নাগরিক নিহত ও আটজন আহত হন।
