এবারের পুজোর বাজারে অন্যতম বড় আকর্ষণ সৃজিত মুখার্জির বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। ছবির মুখ্যচরিত্রে রয়েছে ততোধিক চমক- টোটা রায়চৌধুরী এবং আবীর চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি ছবির প্রচারের ফাঁকে 'আজকাল ডট ইন'-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই তারকা। ছবি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি খোশমেজাজে উঠে এল তাঁদের ফিটনেস রুটিন থেকে শুরু করে আরও নানা রঙের কথাবার্তা।
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ফিট ও সুপুরুষ অভিনেতা হিসেবে যাঁদের নাম সবার আগে উঠে আসে, তাঁরা হলেন টোটা রায়চৌধুরী এবং আবীর চট্টোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যের প্রতি কঠোর সংযম এবং নিয়মানুবর্তিতা দুই তারকারই মূল মন্ত্র।বলাই বাহুল্য, নিয়মানুবর্তিতা মেনে পা ফেলাই তাঁদের অভ্যাস। যদিও আবীরের বক্তব্য, “টোটা’দার মতো অতটাও ডিসিপ্লিনড নই আমি। পারি না। যদিও টোটাদা কীভাবে এত নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলে, তা বহুবার ওঁকেই আমি জিজ্ঞেস করেছি।” পাল্টা টোটার জবাব, “ না, না যথেষ্ট ডিসিপ্লিনড তুমিও।”
তবে মজার কথা, বাস্তব জীবনে স্বাস্থ্যের এত খেয়াল রাখলেও পর্দায় কিন্তু বেশ ঘন-ঘন ধূমপান করতে দেখা গিয়েছে এবং যায় টোটাকে। এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন অভিনেতা নিজে? পর্দার ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’-এর কথায়, "করতে হয়। টোটার ইঙ্গিত থেকেই স্পষ্ট নিজের অভিনীত চরিত্রের জন্য এই পদক্ষেপটা তিনি নেন। এরপরেই স্মিত হেসে, মজা করে তাঁর সংযোজন, “কাকতালীয়ভাবে সৃজিতের ছবিতেই বেশি তামাক সেবন করতে হয় আমাকে। এ ছবিতে তো বটেই ফেলুদা -তেও ভীষণভাবে...তাই আমার ফুসফুসে যাবতীয় যা নিকোটিন জমা হয়েছে, তা সৃজিত মুখার্জির দৌলতেই হয়েছে!” টোটার কথা শুনে ততক্ষণে হাসি লেগেছে আবীরের মুখেও।
প্রসঙ্গত, মুক্তির আগেই ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-কে ঘিরে দর্শকমহলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। সেই আগ্রহেরই প্রতিফলন আইএমডিবির তালিকায় উঠে এল এই ছবির নাম। কীভাবে? সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত এবং প্রদীপ কুমার নন্দীর নন্দী মুভিজ প্রযোজিত ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ আইএমডিবির সবথেকে প্রতীক্ষিত ভারতীয় ছবি ও শোয়ের তালিকায় রিয়েল টাইম জনপ্রিয়তার নিরিখে এক নম্বর স্থান দখল করেছে। মুক্তির আগেই ছবির এই স্বীকৃতি ছবিকে ঘিরে দর্শকদের বাড়তে থাকা কৌতূহল ও প্রত্যাশাকেই আরও একবার সামনে আনল।
https://www.youtube.com/watch?v=vZCv49OXTLI
‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবি ফিরে দেখবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’ প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের দ্বারা সেই উপন্যাস নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসের বিপ্লবী ভাবনাকে ব্রিটিশ প্রশাসন রাষ্ট্রবিরোধী বলে মনে করেছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ছবিতে উঠে আসবে ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে সাহিত্যের সংঘাত এবং একটি লেখার কীভাবে একটি সাম্রাজ্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর ক্ষমতা থাকতে পারে, সেই গল্পই।
ছবিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে টোটা রায়চৌধুরী এবং তাঁর রচিত ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের বিখ্যাত বিপ্লবী চরিত্র ‘সব্যসাচী মল্লিক’-এর ভূমিকায় আবীর চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন মিমি চক্রবর্তী, দিব্যাণী মণ্ডল, ঋক চ্যাটার্জি, দেবপ্রিয় মুখার্জি, সঞ্জয় নাগ, কৌশানী মুখার্জি এবং কাঞ্চন মল্লিক-সহ আরও অনেকে। ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় নাগ।
ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ, সম্পাদনা, সঙ্গীত ও গীতরচনার দায়িত্বেও রয়েছেন সৃজিত মুখার্জি। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন ইন্দ্রনাথ মারিক, আবহসঙ্গীতে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, রূপসজ্জায় সোমনাথ কুণ্ডু এবং পোশাক পরিকল্পনায় সাবর্ণী দাস। ছবির প্রযোজক প্রদীপ কুমার নন্দী।
