আজকাল ওয়েবডেস্ক: জঙ্গলমহলের উন্নয়নে এবার বিশেষ নজর রাজ্য সরকারের। ঝাড়গ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার লোধা-শবর অধ্যুষিত কালাঝাড়িয়া গ্রামে একটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করে এই ঘোষণা করেন তিনি। আগামী ছ’মাসের মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে জেলাশাসককে নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনজাতি ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
কালাঝাড়িয়া গ্রামে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিলেন। সেখান থেকেই আবাসন প্রকল্পের উপভোক্তা নির্বাচন, দুর্নীতির অভিযোগ এবং জঙ্গলমহলের অতীত পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথাও। আবাসন প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা’ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া ২৬ হাজার ৭০০ জন উপভোক্তার উপর সমীক্ষা চালিয়ে একাধিক ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে আবাসন প্রকল্পের টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন করে সমীক্ষার পর ১৭ হাজার ৯৮৩ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। আবাসন প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করার উপরেই জোর দেন তিনি।
এ দিনের কর্মসূচিতে জঙ্গলমহলের মাওবাদী পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, মাওবাদী ও সিপিএমের আমলে এলাকার জনজাতি ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মানুষকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হত। হাঁসদা, সোরেন, টুডু, মুর্মু, মাঝি, সিং ও মাহাতোদের মতো সম্প্রদায়ের মানুষকে মাওবাদী তকমা দিয়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ২০০৯ সালের নির্বাচনে জঙ্গলমহলে ভোটদানের হার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। ভোট বয়কটের ডাকের জেরে সে সময় এলাকায় কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আগের সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে শুভেন্দু জানান, এই অঞ্চলকে আর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হবে না। পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। আগামী ছ’মাসের মধ্যে ঝাড়গ্রাম জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, আগামী ১২ নভেম্বর বাঁকুড়ায় বাদনা পরবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
