কালবেলা · সাধারণ
রেললাইন মেরামতের কথা জানতেন না লোকোমাস্টার, ৩ বগি লাইনচ্যুত
২১/১০/২০২৬

কুমিল্লার লাকসামে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনের ৩টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাকসামের আজগরা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, নাওটি স্টেশনের উত্তর পাশে এসব বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। রেললাইনে কাজ চলার সময় লাইন খোলা থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রেললাইন মেরামত চলছিল, জানতেনই না কর্ণফুলী কমিউটারের চালক। তবে এ বিষয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে উদ্ধারকাজের জন্য লাকসাম রেলওয়ে জংশন ও চট্টগ্রাম থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন পাঠানো হয়েছে। তবে উদ্ধারে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এ দুর্ঘটনার পর ট্রেনটির যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে কোনো যাত্রীর হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্রেনটিতে প্রায় ১০টি বগি ছিল। এর মধ্যে ইঞ্জিনের পেছনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে আরেকটি রেললাইন দিয়ে রেলপথটিতে অন্য ট্রেনের চলাচল অব্যাহত আছে। এতে চট্টগ্রাম-ঢাকা পথে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ট্রেনে থাকা একাধিক যাত্রী জানান, ট্রেনটি দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের পর নাঙ্গলকোট স্টেশন ছেড়ে আসে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এদিন ট্রেনের গতি বেশি ছিল। নাওটী স্টেশন পার হওয়ার পর ট্রেনটির তিনটি বগি বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এ সময় ট্রেনে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। একাধিক যাত্রী মাথাসহ বিভিন্নস্থানে আঘাত পান। কয়েকজনের মাথা ফেটে যায়। হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে আহত হন আরও কয়েকজন যাত্রী।
ট্রেনে থাকা যাত্রী নাহিদা আক্তার বলেন, চলতি পথে হঠাৎ তীব্র শব্দ হয়। এরপর একজনের গায়ে আরেকজন কাত হয়ে পড়ে। কয়েকজন পদপৃষ্ঠ হয়। তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে দেখি ধোঁয়া বের হচ্ছে।
দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের কোনো কাজ চলছিল কি না, জানতে চাইলে লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশনমাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ কোনো কাজ করলে আগে ও পরের দুই স্টেশনকে জানায়। তবে এ ধরনের কাজের বিষয়ে তারা কোনো তথ্য পাননি।
দুর্ঘটনার পর থেকে আপলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে জানিয়ে ওই স্টেশনমাস্টার বলেন, তবে ডাউনলাইন দিয়ে দুই দিকের ট্রেন চলাচল করছে। লাকসাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের (পূর্বাঞ্চল) অধীন ফেনী অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে দুর্ঘটনার সময় রেললাইনে কোনো কাজ চলছিল কি না এবং কাজের জন্য লাইন খোলা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗