ক্লাস নাইন-টেনে পড়ার সময় আমি বিজ্ঞানচিন্তা খুব পড়তাম। প্রতি মাসে অপেক্ষায় থাকতাম, কবে নতুন সংখ্যা বাজারে আসবে। প্রায় দুই-তিন বছর একটানা বিজ্ঞানচিন্তা পড়েছি এবং পড়তে এত ভালো লাগত যে প্রতি মাসে নতুন সংখ্যার জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে থাকতাম। প্রতিটি বিষয় এত সুন্দরভাবে বোঝানো থাকত যে সেই শেখার আনন্দ আমি স্কুল-কলেজের কোনো পাঠ্যবইয়ে খুঁজে পাইনি। বিজ্ঞানের প্রতি আমার যে প্রচুর আকর্ষণ ছিল, বিজ্ঞানচিন্তা পড়ার পর তা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
এরপর আমি ইন্টারমিডিয়েটে উঠলাম, তারপর কলেজ, তারপর অ্যাডমিশন। সবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাই। এই দীর্ঘ সময়ে পড়াশোনার চাপে আর বিজ্ঞানচিন্তা পড়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এখন আমি অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছি। তবু বেশ কয়েক দিন ধরে হঠাৎ করেই বিজ্ঞানচিন্তার কথা খুব মনে পড়ছিল।
অবশেষে বাজারে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে বিজ্ঞানচিন্তা পেয়ে যাই। আমি নতুন সংখ্যা চাইনি। দোকানের এক লাইব্রেরিয়ান ভাইকে বললাম, ‘পুরোনো হলেও চলবে, শুধু বিষয় দেখে যেগুলো ভালো লাগবে সেগুলো নেব। আপনার কাছে নতুন-পুরোনো যা যা আছে, সব দিন।’ পরে আমি বেশ কয়েকটি পুরোনো সংখ্যা কিনে আনি। পুরোনো হলেও সমস্যা নেই। কারণ আমি জানি, বিজ্ঞানচিন্তার নতুন-পুরোনো বলে কিছু নেই। এখানে প্রতিটি বিষয় এত সুন্দর ও ভালোভাবে উপস্থাপন করা হয় যে অনেক দিন পর সেই বইগুলো পড়ে মনে হচ্ছে, অবশেষে আমি নিজের পছন্দের কিছু একটা পড়ছি।
বিজ্ঞানচিন্তাকে আমি সব সময় মিস করি। আগেও করতাম, এখন আরও বেশি করি। আমার মনে হয়, স্কুল-কলেজের সব শিক্ষার্থীর বিজ্ঞানচিন্তা পড়া উচিত। তাহলে তারা বিজ্ঞানকে সত্যিকারভাবে উপলব্ধি করতে পারবে, অনুভব করতে পারবে এবং বিজ্ঞানের চিন্তা করতে পারবে।
মো. মাসুদ রানা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
