Published on
:
2 min read
বিশ্বরূপ বিশ্বাস, ইসলামপুর
এক বৈশাখে দেখা হলো দু'জনার, জৈষ্ঠতে হলো পরিচয় ...। বিখ্যাত এই বাংলা গানের কলির সঙ্গে অনেকটাই মিল তাঁদের। কারণ প্রেমের মধুরেণ সমাপয়েতের জন্য অনেক দিন বা মাস নয়, অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল দু'জনকে। প্রথম প্রথম লুকিয়ে দেখা করা। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে চুপি চুপি ফোনে কথা বলা। চোপড়ার সৌভিক দাস ও নিকিতা সাহার সম্পর্কের গল্পটা আর পাঁচ জন প্রেমিক-প্রেমিকার মতো নয় মোটেই। কারণ, এক-দু'বছর নয়, দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পরে অবশেষে চার হাত এক হয়েছিল।
নতুন জীবনের শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই এসেছিল দুর্গাপুজো। প্রথম পুজোয় একেবারে চুটিয়ে আনন্দ উপভোগ করেছিলেন দু'জন। একে অপরের হাত ধরে পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা, একসঙ্গে ছবি তোলা সবই করেছিলেন নবদম্পতি। কিন্তু এ বার দুর্গাপুজোটা সম্পূর্ণ অন্যরকম তাঁদের। পুজোর আনন্দে মেতে ওঠার বদলে এখন হাসপাতালে নিকিতার শয্যার পাশে হাত ধরে বসে রয়েছেন সৌভিক। ঢাকের বাদ্যি, আলোর রোশনাই কোনও কিছুই স্পর্শ করছে না তাঁদের।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াংয়ের সিটংয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন নিকিতা ও সৌভিক। হোমস্টেতে বারবিকিউ বিস্ফোরণে মারাত্মক ভাবে দগ্ধ হন নিকিতা। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে আহন হন সৌভিকও। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হয়ে যায়। হোমস্টের মালিক-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রশাসনের তরফে হোমস্টেটি সিল করা হয়। প্রথমে শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় নিকিতাকে। পরে তাঁকে কলকাতার বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শরীরের ৬০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও ধীরে ধীরে আশার আলো দেখছেন সৌভিক।
চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিকিতার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এখন কথা বলতে পারছেন তিনি। শরীরে সংক্রমণও অনেকটা কমেছে। যদিও মাঝেমধ্যে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন নিকিতা। তবু সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। স্ত্রীর এই লড়াইয়ে সঙ্গী হয়েছেন স্বামীও। বারবার সুস্থ হয়ে ওঠার অভয়বাণী দিচ্ছেন। হাত না ছাড়ার অঙ্গীকার করছেন। ওষুধের পাশাপাশি তাঁর এই 'থেরাপি' নিকিতাকে মানসিক ভাবে সাহস জোগাচ্ছে।
সৌভিক বলেন, 'যতদিন না নিকিতা সুস্থ হচ্ছে, আমি দিনরাত ওর পাশে থাকব। পুজোয় অনেক পরিকল্পনা করেছিলাম। ও সুস্থ হয়ে উঠুক, সেটাই এখন চাই। এ বার না হয় পুজোয় ঘোরা হলো না। সামনের বছর আবার হাত ধরে পুজোয় ঘুরব। সবাই সেই প্রার্থনাই করুন।'