রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। তবে নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভাঙার আনন্দটা নিশ্চয়ই একটু অন্য রকম। সেই আনন্দে ভাসলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রিংকি বিশ্বাস। মেয়েদের ৫০০০ মিটার দৌড়ে নিজের জাতীয় রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই অ্যাথলেট। তাঁরই সতীর্থ প্রিয়া আক্তার আবার মেয়েদের ৩০০০ মিটার দৌড়ে ভেঙেছেন রিংকির পুরোনো রেকর্ড।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসের দ্বিতীয় দিনে আজ এমন দুটি জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতার প্রথম দুই দিনেই সাতটি নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন দেশের অ্যাথলেটরা।
মেয়েদের ৫০০০ মিটার দৌড়ে ১৮ মিনিট ৮.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন রিংকি। ২০২৫ সালে এই ইভেন্টে ১৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। এবার সেই সময় কমিয়ে এনেছেন ১১.৫০ সেকেন্ড। নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙে আরও একবার নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে।
মেয়েদের ৩০০০ মিটার দৌড়ে রিংকির রেকর্ডটি অবশ্য আর অক্ষত থাকেনি। সেটি ভেঙে দিয়েছেন তাঁরই নৌবাহিনীর সতীর্থ প্রিয়া আক্তার। ১০ মিনিট ২৪.৩৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন প্রিয়া। এই ইভেন্টে ২০২৫ সালে ১০ মিনিট ২৭.৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন রিংকি। প্রিয়া সেই সময় কমিয়েছেন ৩.২২ সেকেন্ড। এক ইভেন্টে নিজের রেকর্ড ভাঙলেন রিংকি, আরেক ইভেন্টে তাঁর রেকর্ড ভাঙলেন সতীর্থ প্রিয়া।

দ্বিতীয় দিনের অন্য ইভেন্টগুলোর মধ্যে মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসে ১৪.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তাসমিয়া হোসেন। পুরুষদের হাইজাম্পে ২.১০ মিটার লাফিয়ে সেরা হয়েছেন নৌবাহিনীর মাহফুজুর রহমান।
পুরুষদের ৪০০ মিটার দৌড়ে ৪৭.৫৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লুসাদ ইসলাম। একই ইভেন্টে মেয়েদের বিভাগে ৫৬.২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন সেনাবাহিনীর বর্ষা খাতুন।
প্রতিযোগিতার প্রথম দুই দিনে শেষ হয়েছে মোট ৩০টি ইভেন্ট। পদক তালিকায় আধিপত্য ধরে রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ১৭টি সোনা, ১২টি রুপা ও ১৭টি ব্রোঞ্জসহ তাদের মোট পদক ৪৬টি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সংগ্রহ ১২টি সোনা, ১৬টি রুপা ও ৬টি ব্রোঞ্জসহ ৩৪টি পদক। একটি সোনা ও একটি রুপাসহ দুটি পদক নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে বিকেএসপি।
