সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো । এবার দেবী নৌকায় চড়ে ফিরে গেলেন কৈলাসে। সঙ্গে ছিলেন গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। প্রতিবারের মতো এবারও উৎসবরমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে দুর্গোৎসবের প্রতিটি দিন ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে পূজা মণ্ডপগুলোতে বিদায়লগ্নের বিষণ্ণতা থাকলেও আনন্দেরও কমতি ছিল না। সকাল থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে ছিল বিদায়ের প্রস্তুতি। সকালে দশমী পূজা শেষে ভক্তদের দেয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি। এসময় দেবী দুর্গাকে প্রণাম জানিয়ে পৃথিবীর সকল অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করেন ভক্তরা।
- Advertisement -
বুধবার বেলা ১২টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রে শুরু হয় বিসর্জন। পতেঙ্গা ছাড়াও কর্ণফুলী অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও কাট্টলীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। পতেঙ্গাসৈকতে প্রতিমা নিরঞ্জনের উদ্বোধন করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় মেয়র বলেন, নগরে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে বন্দরনগরী ছিল উৎসবমুখর। ছিল সরকারি ছুটিও। ছুটির দিনে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বিসর্জন দেখতে সৈকতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। এসময় লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে পতেঙ্গা সৈকত এলাকা। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও আসে সৈকতে।
সরেজমিন দেখা গেছে, দুপুর থেকে ঢোলের বাদ্য, জয় মা দুর্গা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পতেঙ্গা সৈকত এলাকা। বেলা বাড়তেই সৈকত এলাকায় বাড়তে থাকে প্রতিমাবাহী সারি সারি ট্রাকের লাইন। ট্রাক সৈকতে ঢুকার আগেই নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়। এসময় ঘোষণা মঞ্চ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল গাড়ির সাউন্ড বন্ধ রাখতে এবং প্রতিমা দ্রুত নামিয়ে বিজর্সন শেষ করতে। এরপর ট্রাক সাগর পাড়ের কাছে গিয়ে প্রতিমা নামিয়ে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় সৈকতে। তবে এবার মহানগর পূজা পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যা খুবই কম চোখে পড়েছে। বিসর্জনের স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। এজন্য ট্রাক থেকে প্রতিমা নামিয়ে সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যেতে পূজা কমিটিকে বেগ পেতে হয়। পূজা পরিষদের অস্থায়ী মঞ্চ থেকে বার বার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিসর্জনের স্থান পরিষ্কার রাখতে বার বার জানানো হয়। এছাড়া সৈকতে নামার স্থানে কোনোরকম বেষ্টনি দেয়া হয়নি।
এদিকে বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে পতেঙ্গা সৈকতসহ ১৬ থানা এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। পুলিশ, এসআরবি, ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ড সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
পঞ্জিকা মতে, গত ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে ঘোড়ায় চড়ে এই মর্ত্যধামে ভক্তদের মাঝে আসেন দেবী দুর্গা। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও আজ বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
অন্যদিকে বিজয়া দশমীর সকাল থেকে পূজা মণ্ডপগুলোতে বিদায়লগ্নের বিষণ্ণতা থাকলেও আনন্দেরও কমতি ছিল না। সকাল থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে ছিল বিদায়ের প্রস্তুতি।
এদিন বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার কপালে দেন সিঁদুর, মুখে দেন পান-মিষ্টি এবং চুলে তেল। স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীরা ১০৮ বার শ্রীশ্রী দুর্গা লেখা চিরকুট গুজে দেন দেবীর হাতে। এরপর নারীরা একে অন্যকে তেল-সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে মিষ্টিমুখ করান এবং আনন্দে মেতে উঠেন।
পঞ্জিকা মতে, মহাদশমী পূর্বাহ্ন ৯টা ৩৩ মিনিটের মধ্যে কিন্তু কুলিকবেলানুরোধে ৯টা ২২ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপন করা হয়। এরপর ভক্তদের দেয়া হয় অঞ্জলি। অঞ্জলি দিতে ভোর থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমান ভক্তরা।
মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন চলছে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ছাড়াও কর্ণফুলী অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও কাট্টলী সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমা নিয়ে ট্রাক আসা মাত্রই আমরা দ্রুত বিসর্জনের ব্যবস্থা করছি। যাতে তাড়তাড়ি শেষ করা যায়।
প্রসঙ্গত, এবার চট্টগ্রাম নগরের ১৬ থানায় ২৯৪টি মণ্ডপ এবং জেলায় ১ হাজার ৪৬৫টি মণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
