নাহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানেরা
- প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৭ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে যশোরের একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি ও তাঁদের দুই শিশুসন্তান। স্বজনদের আশঙ্কা, আগুনে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁরাও থাকতে পারেন। তবে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত তাঁদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। নাহিদুর ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। পরিবার নিয়ে তিনি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না স্বজন ও সহকর্মীরা।
নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টটির একটি কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। গত ১১ অক্টোবর বুকিং দেওয়া হয়েছিল বলে বিলের কপিতে দেখা গেছে।
জাহিদুর বলেন, শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তাঁর ভাই। শনিবার রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে নাহিদুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন। কিন্তু তাঁর ভাই কিংবা পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যায় নিজেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুই ভাই। মা নেই। অসুস্থ বাবা আমাদের সঙ্গে গ্রামে থাকেন। বাবা এখনো নাহিদুরের খবর জানেন না। তারা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, সেটিও নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি।’
নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।
নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান শনিবার রাতে বলেন, নাহিদুর নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাঁরা জেনেছেন। ছয়জন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে নাহিদুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মনিরামপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি প্রকাশ করে উদ্বেগ ও সমবেদনা জানাচ্ছেন।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়ার মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ার টেক এলাকায় টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনে মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
-
সর্বশেষ সংবাদ
জনপ্রিয়

- প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৫ পিএম
মোটরসাইকেল, ৪০ হাজার টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ; মাদক কারবারিদের ‘কমফোর্ট জোন’ থাকবে না: পুলিশ। দিনাজপুর শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী লাকীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দাবী, গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
উদ্ধার করা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সিপাহিপাড়া ঢাকাইয়া পট্টি লাইনপাড় এলাকায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, দুটি ব্যাগ, মাদক বিক্রির নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার ও ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাদক কারবারিদের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’ থাকবে না।অভিযান-পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম বলেন, “আমরা দিনাজপুরবাসীর কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ—এ অঞ্চলের মাদকের ভয়াবহতা থেকে মানুষকে কীভাবে মুক্তি দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে দিনাজপুর পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, দিনাজপুরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পুলিশ গোপনে তথ্য সংগ্রহ করছে। কারা, কখন ও কীভাবে মাদক কারবার পরিচালনা করছে, সে সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের ধারাবাহিকতায় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী লাকীকে ২০ হাজার ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদক কারবারিদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে আব্দুল হালিম বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের কমফোর্ট জোন বলে কিছু থাকবে না। তাদের মনে করতে হবে, এটি একটি ডেঞ্জার জোন। মাদক এখান থেকে নির্মূল হবে। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের বিচারের আওতায় আনা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের আড়াল হতে পারে না, প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এক পরিদর্শক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকার বেশি বলে জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা কখনো কখনো রাজনৈতিক পরিচয়কে মুখোশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে পুলিশ অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে।
মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পেছনে কারা রয়েছে, কারা তাঁদের ইন্ধন দিচ্ছে, তা-ও শনাক্ত করার কথা জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কিংবা তাঁদের পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান,মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক সেবন থেকে শুরু করে কেনাবেচা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে দায়ীত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করে মসজিদ কমিটি, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুরকে মাদকের বিস্তার থেকে রক্ষা করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং উদ্ধার করা আলামতের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।

ছবি : সংগৃহীত
- প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ এএম
কক্সবাজারের ইনানীতে ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), নাফিজের বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩), তার পাঁচ বছর বয়সী ভাগনে ফায়িজান আহম্মেদ, ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন হতাহতদের বিষয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট শব্দ হওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো স্থাপনায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় উদ্ধার অভিযানও পরিচালনা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, টুপটুপ রিসোর্টে মোট কক্ষ ছিল নয়টি। গত শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। এরপর বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। অন্যদিকে, আগুন লাগার সময় রিসোর্টের ভেতরে থাকা পর্যটকদের অনেকে ঘুমিয়ে থাকায় তারা কক্ষের মধ্যে আটকা পড়েন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘রিসোর্টের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

গ্রেফতার সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব
- প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ এএম
নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় অপূর্ব নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযান চালিয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে পুরাতন সিনেমা হল রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার সাজেবুল ইসলাম অপূর্ব (২৩) দুর্গাপুর পৌরশহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা শমসের আলীর ছেলে। অপূর্ব দুর্গাপুরের অন্যতম সন্ত্রাসী তাজুল ইসলামের সহযোগী বলে নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় তেলনজিয়া গ্রামে বাড়ির পাশে দোকানে সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের কিছুটা ভেতরে তেলনজিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।

মিজানুর রহমান ওরফে মিজান
- প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ এএম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীকে প্রথমে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ মিজান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যার নতুন বাড়ির আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে ঢোকে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পেটের বাঁ পাশে, বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে উরুতে গুলি লাগে। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান আমাদেরকে ভালো জানে। তিনি জামায়াতের সমর্থক মাত্র। ২০২০ সালেও এই ব্যবসায়ীর ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিলেন। তখন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবার মুখোর পরে তার দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করে। তবে মুখোশ পরে থাকায় তাৎক্ষণিক কাউকে চিহিৃত করা যায়নি। হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু
- প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আজ ১৭ অক্টোবর, দুপুরে নগরীর জোড়াগেট সিডিসিতে কমিউনিটি লেড ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম (ফায়ার হাইড্রান্ট) স্থাপন কাজের উদ্ধোধনে সিস্টেমটিতে থাকা জনগণের জন্য ৩০ হাজার লিটার পানির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন চারটি পয়েন্ট, দৈনিক ৫ হাজার লিটার পানির ব্যবহার এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর জন্য ২৫ হাজার লিটার সংরক্ষিত পানি এবং দুর্যোগ মুহূর্তে সেবাদানের জন্য ২০ জন দক্ষ স্বেচ্ছাসেবীর প্রশিক্ষণ প্রদানের সুবিধা উল্লেখ করে আওতায় থাকা সুবিধাভোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
এ সময় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চীফ প্লানিং কমিউনিটি লিডারসহ কেসিসি ও প্রকল্পের অনেক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

খেলোয়াড় বাছাই উপলক্ষে বাফুফে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত
- প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৫ পিএম
অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-২০২৭ ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম উপলক্ষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় টুর্নামেন্টের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. গোলাম ফারুক খোকন।
সভায় বাফুফের নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের খুঁজে বের করা, তাদের দক্ষতা বিকাশ এবং বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এ আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে গোলাম ফারুক খোকন বলেন, “ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; ফুটবল শৃঙ্খলা, ঐক্য, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বের শিক্ষা দেয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ প্রতিটি এলাকায় অনেক প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার রয়েছে। তাদের সঠিকভাবে খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”
তিনি বলেন, অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্টের এই বাছাইপর্ব তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিভা প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, শৃঙ্খলা ও মাঠের পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণ ফুটবলারদের উদ্দেশে গোলাম ফারুক খোকন বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে এবং প্রশিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। তবে সততা, অধ্যবসায় ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবই একজন প্রকৃত খেলোয়াড়ের পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, দেশের ফুটবলের উন্নয়নে বাফুফের নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে তরুণ ফুটবলারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-২০২৭ ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলাররা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের ফুটবলের উন্নয়ন, নতুন প্রতিভার বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশায় এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
