কালবেলা · সাধারণ
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মায় ইলিশ শিকার, নদীপাড়েই বসেছে ‘ইলিশের হাট’
১৪/১০/২০২৬

সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে, তবু থেমে নেই ইলিশ শিকার। মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে অবাধে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ। নদীপাড়ে বসেছে অস্থায়ী ‘ইলিশের হাট’, যেখানে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ডিমওয়ালা ইলিশ। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ইলিশের প্রজনন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মার তীরে এমন চিত্র দেখা যায়।
জেলেদের ট্রলার থেকে মাছ নামানোর পর ফড়িয়ারা তা কিনে নদীপাড়ের অস্থায়ী হাটে বিক্রি করছেন। সেখানে প্রতি কেজি এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরকার মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম চরাঞ্চল ও প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতির সুযোগে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে মাছ ধরা ও বেচাকেনা।
ইলিশ কিনতে আসা সজিব খালাসি বলেন, ‘আমি একজন প্রবাসী। এখানে এসে দেখলাম পুরুষ ক্রেতার তুলনায় মহিলা ক্রেতারাই বেশি। ছোট বড় সব সাইজের ইলিশ দেখা যাচ্ছে। তবে মা ইলিশ ধরা বন্ধে, প্রশাসন অভিযান চলমান থাকা সত্ত্বেও ইলিশের অস্থায়ী বাজার বসেছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে কালবেলাকে বলেন, ‘ঋণ করে জাল কেনা এবং সংসারের খরচ মেটানোর চাপে মাছ ধরতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে অভিযান জোরদার, অবৈধ হাট বন্ধ এবং অসচ্ছল জেলেদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে পুরো এলাকায় শতভাগ নজরদারি কঠিন হলেও তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চলছে। নদীপাড়ের অবৈধ অস্থায়ী হাট বন্ধে শিগগিরই বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗