পাবনার বেড়ায় ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি দোকান ও অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেড়া বিবি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বেশ কিছুদিন ধরে ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। রোববার টুর্নামেন্টের খেলায় পৌরসভার ২ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দল মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে ড্র হলে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণের সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এর জেরে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরপাড়া এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম মহল্লার বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসাঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তেই পুরো নাজিম বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মাঝে বেশ কিছু দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ এবং অন্তত ১৫টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুলান্ট চাকমা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফোর্স নিয়ে সরাসরি মাঠে নামেন বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া ও সুজানগর থানা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এসআরবি মোতায়েন রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, সংঘর্ষে আহতদের বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
