একসময় বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে রাজ করতেন সুপারস্টার জিতেন্দ্র। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মোট ১২০ টি হিট সিনেমা। এই তালিকায় রয়েছে 'কারভান', 'ধর্মবীর', 'উধার কা সিঁদুর'- এর মতো একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা। বয়সের সাথে সাথে অনেকদিন আগেই অভিনয় জগত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন অভিনেতা। তবে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও তাঁর স্টারডম আজও কমেনি একফোঁটা।
অভিনয় জগতে নিজস্ব ছাপ রাখার পাশাপাশি জিতেন্দ্র একসময় রিয়েল এস্টেট সম্পত্তিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন। যার জেরে একসময় মাত্র ৪.২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে কেনা একটি বাংলোর দাম পরবর্তীতে বেড়ে হয় প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা।
অভিনয় জীবনে ব্যাপক সাফল্য পেলেও শুরুর দিকে তাঁর দিন কেটেছিল মুম্বইয়ের খুবই সাধারণ সাদামাটা ছোট্ট একটি ঘরে। পরবর্তীতে তিনি তাঁর 'আনলাকি ঘরের' জন্য বিনিয়োগ করে বিরাট সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিতে গিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন বিনিয়োগের দুনিয়ায় তাঁর প্রথম প্রবেশ ঘটেছিল প্রবীণ অভিনেতা ভারত ভূষণের হাত ধরে।
সেই সময় ভারত ভূষণ আর্থিক সংকটে পড়ে মুম্বইয়ের পালি হিল এলাকার নিজের বাংলোটি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। এই খবর জানা মাত্রই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি জিতেন্দ্র। তাই বাবার সাথে আলোচনা করে ওই বাংলোটি তিনি সেই সময় ৪.২৫ লক্ষ টাকায় কিনে নিয়েছিলেন।
কিন্তু পরবর্তীতে এই বাংলোই অভিনেতার জীবনে অভিশাপ হয়ে ওঠে। তাঁর ধারণা হয় এই বাড়ি কেনার পর থেকেই তাঁর একের পর এক সিনেমা ফ্লপ হতে শুরু করে। তাই দ্রুত এই 'আনলাকি বাংলো'-টি তিনি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাই শেষ পর্যন্ত এই বাংলো ছেড়ে তিনি অন্যত্র চলে যান। তবে বাড়ি বিক্রি করেননি তিনি। আর এই ভাবেই ব্যাপক বিচক্ষণতার পরিচয় দেন অভিনেতা। যা ভবিষ্যতে তাঁর জন্য বিরাট লাভজনক হয়ে ওঠে।
https://youtu.be/Gt-oz49uh6Y?si=wgxdh91_Ae2AMytr
অভিনেতা জানান বহু বছর পর ওই বাংলোটি ভেঙে সেখানে নতুন অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হয়। তিনি জানান সেই সময় শুধুমাত্র ওই বাড়ির বার্মাটিক কাঠ বিক্রি করেই তিনি ১১.৫ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। যা তাঁর ওই বাংলো বাড়ি কেনার মূল দামের চেয়ে অনেক বেশি।
জিতেন্দ্রর ছেলে তথা অভিনেতা তুষার কাপুরের কথায়, বর্তমানে ওই এলাকার ফ্ল্যাটের দামও প্রতি বর্গফুটে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। আর জিতেন্দ্র জানান যে জমিতে তাদের ওই বাংলোটি ছিল, তার বর্তমান মূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা।
