মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সম্পর্ক আরো অবনতি ঘটছে। শুক্রবার জেলেনস্কি সাফ জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ডিজেল চুক্তিকে মানেন না।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে ডিজেল আমদানির জন্য মস্কোর সঙ্গে একটি বিতর্কিত চুক্তি করেছেন। জেলেনস্কি এর সমালোচনা করলে ট্রাম্প বলেন, “রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে বোঝাপড়া করা অনেক বেশি কঠিন।” এর আগে ট্রাম্প রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে কিয়েভের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক শীর্ষ সম্মেলনে জেলেনস্কি জানান, তিনি ডিজেল চুক্তিকে মেনে নিতে পারেন না; কারণ এর পরবর্তী ধাপে হয়তো গ্যাস সংক্রান্ত কোনো চুক্তিও চলে আসতে পারে।
তিনি বলেন, “আমি যদি এর বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াই... তবে আর কে দাঁড়াবে?”
ডিজেল চুক্তি এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
শুক্রবার শীর্ষ সম্মেলনে পৌঁছালে ইইউ নেতারা জেলনস্কিকে সমর্থন জানান। মিত্রদের মাঝে ফিরে আসতে পেরে জেলেনস্কি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘নেতারা—প্রকৃত নেতারা।’ তার এই মন্তব্য সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করেই বলা একটি কটাক্ষ ছিল।
সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য অর্থায়ন এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসনের পর থেকে পঞ্চম শীতকালটি পার করতে দেশটিকে সহায়তা করার বিষয়টি আলোচনার শীর্ষে ছিল।
ইউরোপীয় কাউন্সিলকে জেলেনস্কি জানান, আগামী বছর এই যুদ্ধের পেছনে ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় হবে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র সংগ্রহের জন্য ইইউ-এর কাছ থেকে পাওয়া প্রয়োজন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন বর্তমানে যে পরিমাণ ড্রোন তৈরি করছে, তার চেয়ে তিন গুণ বেশি ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে, কিন্তু ‘এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব রয়েছে।’
জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কি ইউক্রেনকে তার নিজের সমস্যাগুলোর জন্য ‘বলির পাঁঠা’ বানাচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি পুরো ১৫ সেকেন্ড চুপ করে রইলেন। এরপর মুখে হাসি ফুটিয়ে তিনি নিস্তব্ধ কক্ষটিতে বললেন: ‘এটাই আমার উত্তর।’
তিনি বলেন, “আমরা বেঁচে থাকব, লড়াই চালিয়ে যাব এবং সবচেয়ে বড় কথা—মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকব। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যখন জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ে, তখন মর্যাদা বজায় রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
