The Sangbad · সাধারণ
সরু গলি ও গুদামের তালা ভেঙে আগুন নেভাতে বেগ
১৩/১০/২০২৬

পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার এসি মসজিদের পাশে মনজুর খান প্লাজায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
১২ অক্টোবর সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সাততলা ভবনটির ষষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার পর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বাড়ায় পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।
সরু গলি, তীব্র ধোঁয়া, পানির স্বল্পতা এবং গুদামগুলোর তালাবদ্ধ দরজার কারণে প্রায় সাত ঘণ্টা পার হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির কসমেটিকস ও ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা অন্যান্য কম্পার্টমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির ষষ্ঠ তলায় থাকা মালামাল পুড়ে গেছে এবং পঞ্চম তলায় কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ডালপট্টি ও আশেপাশের সরু গলির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা শাহজাহান হোসেন বলেন, "সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারছে না। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইউনিটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।"
পরবর্তী সময়ে ফায়ার সার্ভিসের আরেক নিয়ন্ত্রণকক্ষ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, "সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় আগুন লেগেছে। সেখানে বিভিন্ন পণ্যের গুদাম রয়েছে। প্রতিটি গুদামই তালাবদ্ধ। তাই তালা ভেঙে ভেতরে গিয়ে আগুন নেভাতে সময় লাগছে।"
রাত ৯টার পর আগুনের তীব্রতা বাড়লে পাশে থাকা আরেকটি ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়।
অগ্নিযুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, "আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের সঙ্গে স্পেশাল রেসপন্স টিম ও লাইটিং ইউনিটসহ মোট ১২টি ইউনিট কাজ করছে। সরু রাস্তা, ভবনের কাঠামোগত জটিলতা এবং গোডাউনে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।"
গুদামে আগুন নেভানোর চ্যালেঞ্জ ও সময়ের বিষয়ে মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, "সরু রাস্তাঘাটের কারণে বিশেষায়িত ও ভারী গাড়ি ঘটনাস্থলে নেওয়া কঠিন হচ্ছে। পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে বা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আশা থাকলেও গোডাউনগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় ঠিক কতক্ষণ লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।"
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ নাগরিক বা ব্যবসায়ীর প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার ও অগ্নি নির্বাপণ কাজ চালাতে গিয়ে ধোঁয়ার তীব্রতায় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৫০ জন সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ বাসিন্দাসহ প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। পুরান ঢাকার দোকানগুলোর বিন্যাস ও কাঠামোগত জটিলতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗