ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কাশীপুর বেদে পল্লীতে মাদক ব্যবসা ও চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে যশোরে রেফার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় নিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন বস্তি এলাকা থেকে স্থানীয়রা এক ড্রাগন চোরকে আটক করে। পরবর্তীতে ওই চোরের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মিজান নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে আনা হয়। তবে তাদের থানা পুলিশের হাতে না দিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে কাশীপুর বেদে পল্লী ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এই বিরোধের জেরে সোমবার রাত ৯টার দিকে বেদে পল্লীর একাংশের সর্দার মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় অধিবাসী ইমাম হোসেন লাভলু ও রেজা ডাকাতের নেতৃত্বে দলবল নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে রাতের ওই হামলার জের ধরে মঙ্গলবার সকালে গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একত্রিত হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে শামিম হোসেন, ইমাম হোসেন লাভলু ও আজিজুলসহ অন্তত সাতজন আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি ঝিনাইদহ পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
