উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের সংকট, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যবস্থার অবনতির কারণে দেশটিতে ছাত্র, শিক্ষক ও তরুণদের নেতৃত্বে তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলছে।
ইউরোপের অন্তত নয়টি দেশে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক গণবিক্ষোভের ঢেউ এবার গ্রিসেও ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সরকারি খাতের কর্মীরা রাস্তায় নেমে এসেছেন। এথেন্স ও থেসালোনিকির মতো বড় শহরগুলোতে এই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা পুরো ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া সামাজিক অস্থিরতারই একটি অংশ।
এই আন্দোলনের মূল কারণগুলো হলো:
- জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট: আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি, স্থবির মজুরি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট সংকট থেকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা অত্যন্ত কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে।
- আবাসন সংকট: বাড়িভাড়া অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তরুণ প্রজন্মের নাগালের বাইরে চলে গেছে আবাসন। এথেন্সে শিক্ষার্থীরা সিনতাগমা স্কোয়ারে পার্লামেন্টের সামনে তাবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা সাশ্রয়ী ছাত্রাবাসের তীব্র অভাবকে সবার সামনে তুলে ধরেছে।
- ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা: পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব, কর্মী সংকট এবং স্কুল ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদ করছেন শিক্ষক ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী গোষ্ঠীগুলো। প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের উন্নত পরিবেশ এবং উচ্চ বেতনের দাবিতে ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করছেন।
গ্রিসের এই বিক্ষোভ ফ্রান্স, ইতালি এবং আলবেনিয়ায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বড় ধরনের আন্দোলনের দ্বারা অনুপ্রাণিত। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন, যার মধ্যে লেখা ছিল— "গ্রিস থেকে ফ্রান্স—শিক্ষাক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ করো" এবং "পড়াশোনা করব, নাকি টিকে থাকার লড়াই করব?"। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রিক পুলিশ এথেন্সে হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে, যাতে এই বিক্ষোভ অন্য ইউরোপীয় রাজধানীগুলোর মতো সহিংসতা, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি বা সংঘর্ষের দিকে মোড় না নেয়।
