ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল কিংবা এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজ হামলা ও নৌ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। স্থানীয় সময় গতকাল রাতে এসব ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর একদিনে প্রণালিতে সবচেয়ে বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এটি। খবর এপি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌ বাহিনীর বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, চারটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হলে সেগুলোয় আগুন ধরে যায়। এ সময় জাহাজগুলো থেকে জ্বালানি তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। অন্য তিনটি জাহাজ নৌ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল কিংবা এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ। এর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে অনেকটা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি এ প্রণালি। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ জলপথটি দিয়ে যায়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়ে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌ বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালির অন্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিতের চেষ্টা করলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যুদ্ধ চলাকালে উপসাগরীয় দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় নিয়মিত হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে রেভল্যুশনারি গার্ডের বিরুদ্ধে।
এদিকে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অবস্থান আরো কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয় জানায়, হুথিদের সমাবেশ ও জনবল সংগ্রহের কর্মসূচিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাসিন্দাদের এসব কর্মসূচিতে অংশ না নেয়ার সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
