ঝিনাইদহে পরকীয়ার অভিযোগ এনে এক নারীর চুল কেটে ও মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের বাসিন্দা ও কালীগঞ্জ ভূমি অফিসের কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের মনমত বিশ্বাসের স্ত্রী সুচিত্রা বিশ্বাসের (৪০) পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আন্না খাতুন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্না খাতুন, তার দুই মেয়ে অনি ও কনি এবং ছেলে শুভসহ পাঁচজন সুচিত্রা বিশ্বাসের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে তারা সুচিত্রা বিশ্বাসকে মারধর করেন, মাথার চুল কেটে দেন এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন। সুচিত্রার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর রাতেই সুচিত্রা বিশ্বাস বাদী হয়ে সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সুচিত্রা বিশ্বাস বলেন, “গতকাল বিকেল পাঁচটা কিংবা সাড়ে পাঁচটার দিকে আমার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। আমার ছেলে ঘরে শুয়ে ছিল। পাশের বাড়িতে অনুষ্ঠান হচ্ছিল। আমি আমার নতুন রান্নাঘরে জিনিসপত্র গোছাচ্ছিলাম। এর মধ্যে পাশের গ্রাম নারায়ণপুরের রশিদ এসে বারান্দায় বসেন। এরপর আমার সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আনোয়ার নামের একটি ছেলের সঙ্গে আমার নাকি অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। আমি নাকি আনোয়ারের কাছ থেকে পূজায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে মার্কেট করেছি।”
চুল কেটে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর মধ্যে চার-পাঁচজন মহিলা চলে আসেন। তারা আমার দুই হাত ধরে টেনে দূরে নিয়ে যান। আমার দুই হাত ধরে রেখে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বড় কাঁচি বের করে আমার চুল কেটে দেন। তার দুই মেয়ে আমার হাত ধরে রাখে এবং ছেলে আমার পা চেপে ধরে। পরে তারা ব্যাগ থেকে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ বের করে, সেখান থেকে মরিচের গুঁড়া নিয়ে আমার সারা শরীরে ছিটিয়ে দেন। এ নিয়ে আমি থানায় গিয়ে মামলা করেছি।”
এ বিষয়ে রশিদের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত নারীর বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীদের কেউ এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, এক নারী থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সম্রাট হোসেন/এমটিআই
