“কেউ প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণ করার কথা বলছেন। কেউ সরকার বদলের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। ওদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তারা অরাজকতা তৈরি করে সরকার বদল করতে চায়। ঠিক যেমন হয়েছে বাংলাদেশে।” শুক্রবার এ অভিযোগ করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
লখনউয়ে রাজনাথ বলেন, “দেশের তরুণদের বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন এবং প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকেই তারা অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আবার অন্যেরা প্রকাশ্যেই সরকার ফেলে দেওয়ার ডাক দিচ্ছেন।”
তিনি বলেন, “এ থেকেই স্পষ্ট, তাদের একমাত্র লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলা এবং দেশে অশান্তি ছড়ানো। তাদের আন্দোলন নির্বাচনী সংস্কারের জন্য নয়, এসআইআর বা জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করেও নয়। দেশের তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার জন্যও এই আন্দোলন নয়। বরং দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র চলছে।”
ককরোচ জনতা জনতা পার্টি এবং জেন-জি এর বিক্ষোভকে শুরু থেকেই সরকার ফেলার বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে বর্ণনা করে আসছেন বিজেপি সমর্থকরা। তাদের দাবি, বাংলাদেশ এবং নেপালে যে মডেলে নির্বাচিত সরকার ফেলা হয়েছে, সেই একই মডেল ভারতেও প্রয়োগ করতে চাইছে ডিপ স্টেট।
এমন অবস্থায় সম্প্রতি ককরোচ নেত্রী নেহা বোরা বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই যন্তর মন্তরে তারা বিক্ষোভ চালাচ্ছেন বলে একটি বিবৃতি দেন। সেই বিবৃতি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। এমন সময় আবার প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমরা কেন্দ্রের সরকারের বদল চাই।’
শুক্রবার সিজেপির দুই শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়েই বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ সময় ভোটার তালিকা নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী একবার দাবি করেছিলেন, ৭০ বছরের এক মহিলা দ্বৈত ভোটার। অন্য এক সময়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ৩৫ বছরের এক মহিলা ১২৪ বছরের ভোটার। কখনো কখনো সাধারণ নাগরিকদের ভুয়া ভোটার বলে চিহ্নিত করে তাদের সম্মানহানিরও চেষ্টা করেছেন তিনি।”
রাজনাথ বলেন, “উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। সমাজবাদী পার্টির সমর্থন ছাড়া রায়বরেলিতে নিজের আসন জেতার ক্ষমতা কি রাহুল গান্ধীর রয়েছে?”
