মেখলিগঞ্জে বিএসএফ-এর উপরে হামলার অভিযোগ।ছবি: প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়ো।
Published on
:
2 min read
দিনভর নজরদারি চলছে সীমান্তে। সন্ধ্যা নামতেই বিএসএফ জওয়ানদের গতিবিধি আরও বেড়েছে। ‘নাইট ভিশন’ ক্যামেরায় চোখ রাখা হয় ওয়াচ টাওয়ার থেকে। আকাশে ড্রোন ওড়ে। এই কড়াকড়িতে চোরাকারবারীদের ‘ত্রাহি রব’ উঠেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গোরু পাচার কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বালি-পাথর চুরি করতে কাঁটাতার পেরোচ্ছেন বাংলাদেশিরা! তা করতে গিয়ে শনিবার বিকেলে কোচবিহারে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র উপরে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ-ও পাল্টা গ্রেনেড ছুড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মেখলিগঞ্জ সীমান্তে কাঁটাতারের ও পারে সানিয়ানজান নদীতে ঘটনাটি ঘটে। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে নদী থেকে বালি-পাথর তোলার চেষ্টা করছিলেন কয়েক জন বাংলাদেশি। নজরে আসা মাত্রই তাঁদের চলে যেতে বলে বিএসএফ। অভিযোগ, সেই সময়েই লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের উপরে হামলা চালানো হয়। ঢিল-পাথর ছোড়া হয় জওয়ানদের লক্ষ্য করে। এর পরেই আত্মরক্ষার্থে গ্রেনেড ছোড়েন জওয়ানরা। এর পরেই অনুুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যান বলে খবর বিএসএফ সূত্রে। যদিও এই ঘটনা নিয়ে বিএসএফ-এর তরফে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কোচবিহারে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার জুড়ে বাংলাদেশ সীমান্ত। তার মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় নদীপথ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, চোরাকারবারিরা বর্ষা ও শীতকালে অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। শীতের সময়ে কুয়াশার আড়ালে জওয়ানদের বিভ্রান্ত করে চলে পাচার। আর বর্ষার ভরা নদীতে গোরু থেকে শুরু করে নানা জিনিসপত্র ভাসিয়ে দেওয়া হয়। যা জলে ভাসতে-ভাসতে বাংলাদেশে চলে যায়। বিএসএফ সূত্রে খবর, গত ২ বছর ধরে সীমান্তে সক্রিয় হয়েছে বাহিনী। তার জেরেই চোরাচালান অনেকাংশে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে রাজ্য সরকার বিএসএফ-কে জমিও দিয়েছে কাঁটাতার বসানোর জন্য। সেই কাজও শুরু হয়েছে। তাতে নজরদারি আরও বেড়েছে সীমান্তে।
বিএসএফ সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে সীমান্ত পথে গোরু মজুত করে রাখার অভিযোগ তেমন ওঠেনি। চিনি, লবন বা ইয়াবা পাচারের অভিযোগ কম। ও পার থেকেও ইলিশ মাছ বা কাটা কাপড় চোরা পথে এপারে চলে আসার অভিযোগ নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে এখন বালি-পাথর চুরির পরিকল্পনা করছে চোরাকারবারিরা। কিন্তু কড়া নজরদারিতে তা-ও রুখে দেওয়া হচ্ছে বলেই খবর বাহিনী সূত্রে।
বিএসএফ-এর উপরে হামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুপ্রবেশকারীদের গুলি করে দেওয়ার নিদান দিয়েছেন মেখলিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা সীমান্ত পেরোলেই গুলি করে দেওয়া উচিত।’ পাল্টা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিজেপিকে বিঁধেছে বিরোধীরা। সিপিএমের জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, ‘বর্তমান সরকার অনেক কিছুই বলছে। কিন্তু যা বলছে, তার উল্টো ঘটছে। বিএসএফ-এর উপরে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক।’ কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘মনমোহন সিংয়ের জমানায় কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। মোদী সরকারের আমলে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই বিএসএফ-কে এ ভাবে মার খেতে হচ্ছে।’
রিপোর্টিং: চাঁদকুমার বড়াল
