Published on
:
2 min read
দুঃস্থ পরিবারের মেয়ের বিয়ে। সাধ্যমতো সব আয়োজন চলছে। কিন্তু বিয়ের বেনারসি এখনও কেনা হয়ে ওঠেনি। এদিকে ২২ ডিসেম্বর বিয়ে নদিয়ার মাজদিয়া লক্ষীডাঙা গ্রামের বাসিন্দা তিতলি আচার্যের। কনের ঠাকুমা লক্ষ্মী রানি আচার্য নাতনির বেনারসি শাড়ির জন্য আবেদন করেছিলেন কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়া বুড়িমা পুজো কমিটির কাছে। বৃদ্ধার ডাকে সাড়া দিল পুজো কমিটি। শনিবার, বুড়িমার প্রসাদী বেনারসি, ওড়না, সিঁদুরদানের সিঁদুর আর গায়ে-হলুদের কাপড় নিয়ে হাজির হলেন পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা।
আবেদন পাওয়ার পরে সব খুঁটিনাটি খোঁজ নিয়ে বুড়িমার প্রসাদী শাড়ি কনে তিতলি আচার্যর জন্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুজো কমিটি। ওই কমিটির সহ-সভাপতি দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাকি কর্মকর্তারা তিতলির ঠাকুমা লক্ষ্মী রানি আচার্যের হাতে বেনারসি ও বাকি সব জিনিস তুলে দিয়েছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় বিয়ে ঠিক হয়েছে মাজদিয়া সুধীর রঞ্জন লাহিড়ী মহাবিদ্যালয়ের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী তিতলি আচার্যের। তাঁর বাবা জীবানন্দ আচার্য পেশায় কাঠের পালিশ মিস্ত্রি, মা নীপা আচার্য গৃহবধূ। বিয়ের খরচ অনেক, তার মধ্যেই এই প্রসাদী শাড়ি পেয়ে তাঁরা উপকৃত হয়েছেন জানাচ্ছে পরিবার। কৃষ্ণনগরের দেবী বুড়িমার প্রসাদী শাড়ি পাওয়া তাঁর সৌভাগ্যের বিষয় বলেই মনে করছেন কনে তিতলি আচার্য।
কেন এমন উদ্যোগ?
দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বুড়িমার জন্য ভক্তরা যে সমস্ত শাড়ি দান করেন, সেগুলি থেকেই দুঃস্থ পরিবারে বিয়ের জন্য প্রসাদী শাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁঁরা। এটা তাঁদের প্রথম প্রয়াস, এই কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন দেবাশিস।
কী ভাবে মিলবে বুড়িমার প্রসাদী শাড়ি?
পুজো কমিটি জানিয়েছে, প্রকৃত দুঃস্থ পরিবারের পাশেই তাঁরা দাড়াবেন। এর জন্য আগে থেকে মন্দির কমিটির কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের ভিত্তিতে খোঁজখবর নেবে পুজো কমিটি। তার ভিত্তিতেই প্রসাদী শাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রসাদী বস্ত্র পাওয়ার জন্য অনেক ধনী ব্যক্তিও দরবার করেন। কিন্তু এ বার সিদ্ধান্ত হয়েছে, দুঃস্থ পরিবারের বিয়ের কনের জন্যই তাঁরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।