জাতীয় দলের দরজাটা সৌম্য সরকারের জন্য কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আবার নিয়মিত জায়গাও মেলে না। কখনো ওয়ানডে, কখনো টেস্ট-দলে ডাক পেলেও একাদশে সুযোগ পাওয়াটা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ! সর্বশেষ আফগানিস্তান সিরিজের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দল থেকেও বাদ পড়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তবে তাঁর বাদ পড়ার পেছনে সাম্প্রতিক ওয়ানডে ব্যর্থতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন না প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। বরং জাতীয় দলের বাইরে রেখে তাকে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যস্ত রাখতেই চায় নির্বাচক প্যানেল।
২৮ অক্টোবর মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। আজ এই ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। সেখানে জায়গা হয়নি সৌম্যর। অথচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ এবং সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলেও ছিলেন তিনি। দুই সিরিজের কোনোটিতেই অবশ্য একাদশে নামার সুযোগ হয়নি তার।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও সৌম্যর পক্ষে কথা বলছে না। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে আফগানদের বিপক্ষে প্রথম বলেই আউট হন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেন মাত্র ৯ রান। এমন পারফরম্যান্সের পর তার বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তবে প্রধান নির্বাচক মনে করিয়ে দিয়েছেন, সৌম্যর সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার মতো ইনিংসও রয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে।
হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘দেখুন শেষ ওয়ানডে সিরিজে সৌম্য সরকারের ভালো যায়নি। কিন্তু একটু যদি পেছনে তাকান, তাহলে দেখবেন সৌম্যর জিম্বাবুয়েতে ম্যাচজয়ী ইনিংস রয়েছে। দুই ম্যাচ আগে। খুব বেশিদিন না কিন্তু।’
সৌম্যকে দল থেকে বাইরে রাখার মূল কারণ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ততাকেই সামনে এনেছেন নির্বাচকপ্রধান। জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ড শুরু হচ্ছে আগামীকাল, চলবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এর পরদিনই মাঠে গড়াবে মিরপুর টেস্ট। ফলে জাতীয় দলের হয়ে একাদশে খেলার সম্ভাবনা কম থাকলে স্কোয়াডে রেখে দেওয়ার চেয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁকে খেলানোই বেশি কার্যকর মনে করছে বিসিবি।
বাশার বলেন, ‘এই ম্যাচটায় (মিরপুর টেস্ট) দলে রাখা হয়নি। তার পেছনে অন্যতম একটা কারণ এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চলছে। আপনারা এটা জানেন। আমাদের একাদশে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম। সৌম্য সরকারের আসলে একাদশে খেলার সুযোগটা কম। আমরা চাই সে যেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলে।’
মিরপুর টেস্টের জন্য ঘোষিত দলে ওপেনার হিসেবে রয়েছেন সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম। সবশেষ তিন টেস্টেও এই দুজনই বাংলাদেশের ইনিংস শুরু করেছেন। তাই নতুন করে তৃতীয় ওপেনার নেওয়ার প্রয়োজন দেখেননি নির্বাচকেরা। সৌম্যর মতো বিকল্প ওপেনারদের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ দিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
এ প্রসঙ্গে বাশার বলেন, ‘যেহেতু ২৭ তারিখ শেষ হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, এ কারণে আমরা তৃতীয় ওপেনার হিসেবে কাউকে রাখিনি। এই মুহূর্তে আমরা চাই যাদের তৃতীয় ওপেনার হিসেবে বিবেচনা করছি, তারা যেন সবাই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলে। এজন্য সৌম্য সরকার দলে নেই।’
তবে সৌম্যর জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। বরং সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দল ঘোষণার সময় আবারও বিবেচনায় আসতে পারেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন বিবেচনায় নিয়ে সৌম্যকে দলে রাখার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। তার মতে, সে সময় অন্য ওপেনাররা পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকায় অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করেই সৌম্যকে নেওয়া হয়েছিল।
বাশার বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ায় যখন খেলতে গিয়েছিলাম, সৌম্য সরকারকে নিয়েছিলাম। সেই কন্ডিশনে আমাদের মনে হয়েছিল ওপেনিংয়ে সেই সেরা। আমরা বাকি কিছু ওপেনারদের নিয়ে কাজ করেছি। তারা ঠিক সেসময় অতটা প্রস্তুত ছিল না। তাদের আমরা সময় দিতে চেয়েছি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম তারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলুক। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই আসলে সৌম্য সরকারকে আনা।’
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সামনে রেখে আরও বলেন, ‘তবে এখন দেখি আমাদের চলমান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশ কিছু ক্রিকেটার দেখেছি। পরবর্তীতে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দল দেব, সেখানে কেউ না কেউ যাবে।’
শুধু সৌম্য নন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন পেসার খালেদ আহমেদও। কাউন্টি ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পরও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একাদশে জায়গা পাননি তিনি। এবারও একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় তাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচক প্যানেল। তার জায়গায় দলে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ। পাশাপাশি আছেন হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও শরীফুল হাসান।
খালেদকে নিয়ে বাশারের ব্যাখ্যা, ‘এই মুহূর্তে তো আমাদের টপ থ্রি ইবাদত, শরীফুল, হাসানকে বিবেচনা করছি, তাসকিন ফিরেছে। খালেদেরও আসলে একাদশে ঢোকার সুযোগ কম; কিন্তু সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন যাব, এমনকি পরের টেস্টেই হয়তো খালেদ স্কোয়াডে ফিরতে পারে। আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলাটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।’
সৌম্য ও খালেদের বাদ পড়াকে আপাতত জাতীয় দলের পরিকল্পনার বাইরে চলে যাওয়া হিসেবে দেখছে না বিসিবি। বরং নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিয়ে তাদের প্রস্তুত রাখতে চায় নির্বাচকরা!
