Published on
:
2 min read
এই সময়, পাঁশকুড়া: কোলাঘাটে ফুচকা খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় কড়া জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য দপ্তর। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এক গুচ্ছ পদক্ষেপ করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। মেলায় ফুড স্টল দেওয়ার আগে দোকানদার এবং ব্যবসায়ীকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে নিতে হবে ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট। প্রশাসনের ছাড়পত্র ছাড়া কোনও মেলায় খাবারের স্টল দেওয়া যাবে না। বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। খাবারের গুণগত মান পরীক্ষায় ‘ম্যাজিক বক্স’ নিয়ে মেলায় মেলায় হাজির থাকবেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা।
গত ২২ অক্টোবর, শনিবার সাগরবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের পদমপুরে দুর্গাপুজো উপলক্ষে বসা মেলায় ফুচকা খেয়ে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। জ্বর, পায়খানা ও বমির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় ৩২ জনকে। বর্তমানে সকলেই বিপন্মুক্ত। ফুচকা কাণ্ডে কোলাঘাট থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। বুধবার, দক্ষিণ সাগরবাড় গ্রামের অভিযুক্ত দুই ফুচকা ব্যবসায়ী সন্তোষ মান্না এবং আশুতোষ মান্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের বৃহস্পতিবার তমলুক আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এলাকায় মেডিক্যাল টিম পাঠায় স্বাস্থ্য দপ্তর। সংগ্রহ করা হয় খাদ্যের নমুনা। জানা গিয়েছে, ফুচকায় ব্যবহৃত তেঁতুল, টক জল ইত্যাদির নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর স্বাস্থ্য বিভাগ।
এর পাশাপাশি জেলা জুড়ে খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনা রুখতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বার থেকে মেলায় ফুড স্টল দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং দোকানদারদের স্থানীয় পঞ্চায়েত অথবা পুরসভা থেকে ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট নিতে হবে। এই শংসাপত্র ছাড়া কোনও দোকানদারকে মেলায় ফুড স্টল করতে দেওয়া যাবে না। সমস্ত মেলা উদ্যোক্তাদের এ বিষয়ে জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। এর পাশাপাশি ‘ম্যাজিক বক্স’ নিয়ে বিভিন্ন স্টলে খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষায় জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। কী এই ম্যাজিক বক্স? এমন এক ধরনের বাক্স, যার মধ্যে একাধিক উপাদান রয়েছে। যেগুলির মাধ্যমে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৎক্ষণাৎ খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা করা সম্ভব।
মেলায় ফুড স্টল দিতে গেলে কী কী বিধান মানতে হবে?
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, প্রথমত, সামান্য বাদাম বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় স্টল মালিক সকলকেই ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট নিতে হবে। দুই, ফুড স্টলে গ্লাভস পরে খাবার পরিবেশন করতে হবে। তিন, খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে। চার, বাসি, পচা খাবার স্টলে রাখা যাবে না। পাঁচ, কোনও দোকানদারের সংক্রামক ব্যাধি থাকলে তিনি খাবার পরিবেশন করতে পারবেন না। সামনেই লক্ষ্মীপুজো। নিয়মগুলি যাতে লক্ষ্মীপুজোর মেলা থেকেই বলবৎ করা যায় সে বিষয়ে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।
তমলুকের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায় বলেন, ‘কোলাঘাটে ফুচকা খেয়ে যাঁরা অসুস্থ হয়েছিলেন তাঁরা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আমরা মেলায় মেলায় নজরদারি বাড়াচ্ছি। ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ মেলায় যাতে ফুড স্টল দিতে না পারে সে ব্যাপারে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরকে বলা হয়েছে। খাবারে ভেজাল কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।’ কোলাঘাট থানার ওসি কাজল দত্ত বলেন, ‘ওই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ পাঁশকুড়ার ফুচকা ব্যবসায়ী শ্রীবাস বেরা বলেন, ‘কুড়ি বছর ধরে ফুচকা বিক্রি করছি। আমার ফুচকা খেয়ে কেউ কখনও অসুস্থ হননি। তবে সরকারি গাইডলাইন মেনে ব্যবসা করাই ভালো। সরকার ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট দিলে শর্ত মেনেই তা সংগ্রহ করব।’
