৪৩ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৪৩ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন করা হয়েছে।
আজ রোববার সকালে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, জামায়াত কর্মীদের বিরোধিতা এবং কবর ভরাট করে দেওয়ার ঘটনায় গতকাল শনিবার তার দাফন নিয়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
পরে দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ওসির বলেন, ‘মানিক পশারীর দাফন কোনো অসুবিধা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।’
শনিবার দুপুরের দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনা হয়। মরদেহ সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা জড়ো হন এবং তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিরোধিতা করেন।
পিরোজপুর পৌর জামায়াতের আমির আবদুর রাজ্জাক শেখের দাবি, ‘মানিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মানিককে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং তার মরদেহ দাফনের বিরোধিতা করছি।’
পরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় চিথলিয়া গ্রামে তাকে দাফনের জন্য খনন করা একটি কবর একদল লোক ভরাট করে দেয়।
মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগমের ভাষ্য, ‘কবর ভরাটের সময় ওই ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।’
তবে কবর ভরাটের বিষয়ে জামায়াতের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মানিক পশারীর মরদেহ পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভয়ে স্থানীয়রা কেউ এগিয়ে না আসায় রাতে মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যরা কবরটি পুনঃখনন শুরু করেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে স্থানীয় কয়েকজন এসে কবরটি পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করে দেন।
এরপর রোববার রাত ১টার দিকে পুলিশ মানিক পশারীর মরদেহ তার বাড়িতে নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে পুনরায় খনন করা কবরে তাকে দাফন করা হয়।
২০০৯ সালের ১১ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির সাঈদীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করেন মানিক পশারী।
ওই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মানিক পশারীর বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি বাড়ি ছেড়ে গোপালগঞ্জে আশ্রয় নেন।
এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তিনি পুলিশি নিরাপত্তায় ছিলেন।
