নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম। জমি চিহ্নিত করে সীমানা ও বিবরণ নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি পৌরসভার দখলে রয়েছে। এ নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রেলওয়ের জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের জমি প্রথমে রেলের নিজস্ব প্রয়োজনে এবং পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর ব্যবহারে থাকা জমির ক্ষেত্রেও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে নতুন করে জমি লিজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ের আবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এখানে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি আবাসন থাকলেও বসবাস করছেন আনুমানিক ৯০০ জন। বাইরে তুলনামূলক কম ভাড়ায় ভালো বাসা পাওয়া যাওয়ায় অনেকে রেলওয়ের আবাসনে থাকতে আগ্রহী নন। ফলে সেখানে আবাসনের সংকট নেই বলে মনে করছেন তিনি।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং কোচ মেরামতের মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একসময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রায় ১২ হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হতো। বর্তমানে তা কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে নেমে এসেছে। ফলে অনেক যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ উদ্যোগ নিলে এসব যন্ত্রাংশের অনেকগুলোই দেশে উৎপাদন করা সম্ভব।
রেলওয়েকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রেলওয়ের আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং কোচ মেরামতের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া দেশের প্রায় নয়টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। রেলওয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসক ও নার্সের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবা নিশ্চিত করতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা একসময় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে কারখানা হিসেবে পরিচিত ছিল। কারখানাটির আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রেলওয়ের জমি উদ্ধারকে রেলসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
