নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: গতকাল সকালে হাতির হানায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭৮ বছর বয়সী এক শবর বৃদ্ধ। তাঁর নাম শ্যামাপদ নায়েক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বাড়ি পৌঁছে গেলেন প্রশাসনের কর্তারা। স্বজনহারা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল ক্ষতিপূরণের টাকা। আজ, শনিবার ধাদকিডাঙ্গা গ্রামে আসেন স্থানীয় বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ ও বনবিভাগের আধিকারিকেরা। মৃতের স্ত্রী মালতী নায়েকের হাতে তাঁরা ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি হাতির হানা রুখতে গ্রাম ঘিরে হাতিনালা তৈরি ও হাতি করিডোর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। শুক্রবার সকালে জঙ্গলে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি ৭৮ বছরের শ্যামাপদ নায়েকের। হাতির হানায় তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে
বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কালাঝরিয়া গ্রামে এসেছিলেন। বিষয়টি জানার পরই তিনি আমাদের গ্রামে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এদিন পরিবারের সদস্যদের হাতে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রাম সুরক্ষায় হাতি করিডোর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্রাম ঘিরে হাতিনালা তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর আর্থিক সাহায্য পেয়ে কিছুটা আশ্বস্ত মালতী নায়েক। তিনি বলেন, বিধায়ক এসে চেক তুলে দিয়েছেন। আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আগের সরকারের আমলে কেউ এসে খোঁজ নিত না। এখন বিধায়ক নিজেই আমাদের কাছে এসেছেন।
তবে শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, হাতির আতঙ্ক থেকে স্থায়ী মুক্তিই চাইছেন ধাদকিডাঙ্গার বাসিন্দারা। গ্রামবাসী পিন্টু ভোক্তার কথায়, গ্রামে হাতি চলে আসে। ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাফেরা করতে হয়। বিধায়ক ও বনবিভাগের আধিকারিকেরা গ্রামে এসেছিলেন। হাতির হানা রুখতে হাতিনালা তৈরির কথা বলায় স্বস্তি বোধ করছি।
শ্যামাপদর মৃত্যু ফের একবার সামনে এনে দিয়েছে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলির নিরাপত্তার প্রশ্ন। বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। হাতির হানা রুখতে প্রস্তাবিত হাতিনালা ও করিডোরের পরিকল্পনার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বিভিন্ন জঙ্গল এলাকার গ্ৰামের বাসিন্দারা।
