কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো মানেই বাড়িতে বানানো মা ঠাকুমাদের হাতের নাড়ু নিমকি, মুড়কি আরও কত কী। বাড়ির ছোটরা তক্কে তক্কে থাকে কখন একটা নাড়ু চুরি করা যা! কিন্তু ভোগ নিবেদনের আগে সে সবে হাত দেওয়াও তো মহাপাপ! এখন অবশ্য বাড়িতে এই সব বানানোর সময় নেই কারও, প্রায় সবই আসে মিষ্টির দোকান থেকে। মা-ঠাকুমার হাতের তক্তির স্বাদ এ বারের লক্ষ্মীপুজোয় বাড়িতে বানাবেন নাকি? নাড়ু পাকানোর ঝামেলা নেই, নারকেল কোড়ারও ঝামেলা নেই। আপনি চাইলেই ব্যবহার করতে পারেন নারকেল বাটা। ফলে সময় বাঁচবে আর ঝটপট তৈরি হয়ে যাবে হারিয়ে যাওয়া এই পদ।
উপকরণ
নারকেল বাটা - ২ বাটি
চিনি - ২ বাটি
গুড় দুধ - হাফ বাটি
এলাচ গুড় - হাফ চা চামচ
ঘি - হাফ চা চামচ
প্রণালী
প্রথমে একটা বড় বাটিতে নারকেল বাটা, চিনি, গুড় দুধ, এলাচ গুড় সব কিছু ঠিক পরিমানে নিয়ে ভাল ভাবে মাখতে হবে, যতক্ষণ না চিনি গলে যায় এবং সবকিছু একসঙ্গে মিশে যায়।
এরপর একটা কড়াই মাঝারি আঁচে বসিয়ে তাতে দিয়ে দিতে হবে মেখে রাখা নারকেলের মিশ্রণ। যতক্ষণ পাক দেবেন আঁচ মাঝারি থাকবে। আঁচ বাড়ালে সহজেই পুড়ে যেতে পারে। আস্তে আস্তে চিনি গলে যাবে এবং আবার জমাট বাধতে শুরু করবে। এর মধ্যেই একটা বড় থালাতে ঘি মাখিয়ে রেখে দিতে হবে। যখন দেখবেন চিনি প্রায় শুকনো হয়ে এসেছে তখন ওই ঘি মাখানো থালাতে ধেলে চারদিকে সমান ভাবে ছড়িয়ে দিন।
তারপর একটা ছুরিতে অল্প ঘি মাখিয়ে ইচ্ছে মত আকারে কেটে নিতে হবে। মনে রাখবেন গরম অবস্থাতেই না মাপ দিলে পরে কিন্তু হবে না। ছাঁচে কেটে নেওয়ার পর একটু ঠাণ্ডা হলেই তৈরি আপনার লক্ষ্মী পুজো স্পেশ্যাল তক্তি।
সাধারণত এই তক্তি অনেক দিন রেখে খাওয়া যায়, সহজে নষ্ট হয় না। কিন্তু আপনি যদি এটি আরও বেশি দিন পর্যন্ত ভাল রাখতে চান, তবে নারকেলের পাক যখন প্রায় হয়ে আসবে তখন এতে এক চিমটে কর্পূর (২ বাটি নারকেল বাটা অনুযায়ী) যোগ করে ভাল ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এতে অনেক দিন পর্যন্ত ফ্রিজে না রেখেও এই তক্তি খেতে পারবেন।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
