সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, চুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অধ্যাদেশটির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, সরকারি ভর্তুকির চাপ হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী গ্রীষ্মের আগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রণোদনাও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার বা ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার ব্যয় বহন করবে। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, তারা ভবিষ্যৎ আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা ক্যাপেক্স মডেলেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদ ব্যবহারের বিনিময়ে বিদ্যুতের অংশ প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের চুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান আইনে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে এ খাতে বিনিয়োগ ও চুক্তি ব্যবস্থাপনায় আইনি জটিলতা এড়াতে নতুন অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-তে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থাপন ও পরিচালনার কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করতে অধ্যাদেশটির খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।
নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আইনি অনিশ্চয়তা কমবে এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
