কালবেলা · জীবনধারা
ঘোস্টিংয়ে শুধু ভুক্তভোগী নন, কষ্টে থাকেন অপর পক্ষও
১৮/১০/২০২৬

প্রেমের সম্পর্কে হঠাৎ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের জন্যই কষ্টদায়ক। আধুনিক সম্পর্কের জগতে ‘ঘোস্টিং’ নামে পরিচিত এই আচরণে একজন কোনো কথা না বলে সঙ্গীর জীবন থেকে হারিয়ে যান।
এতে যিনি উপেক্ষিত হন, তিনি যেমন মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তায় ভোগেন, তেমনি যিনি যোগাযোগ বন্ধ করেন, তিনিও অপরাধবোধ ও অনুশোচনায় ভুগতে পারেন। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের।
গবেষকদের মতে, ঘোস্টিংয়ের শিকার ব্যক্তিরা প্রায়ই মনে করেন, অপর পক্ষ তাদের আর ভালোবাসেন না কিংবা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া ব্যক্তিরাও নিজেদের আচরণ নিয়ে দ্বিধা ও অনুশোচনায় ভোগেন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ৩টি পৃথক গবেষণার মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন। এতে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, কাল্পনিক পরিস্থিতি এবং সরাসরি অনলাইন যোগাযোগের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি বুলেটিন’ সাময়িকীতে।
গবেষকদের ভাষ্য, যারা ঘোস্টিংয়ের শিকার হন, তারা অনেক সময় বুঝতে পারেন না কেন অপর ব্যক্তি হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সম্পর্ক শেষ হয়েছে কি না, কিংবা নিজের কোনো ভুলের কারণে এমন আচরণের শিকার হতে হয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন তাদের ভাবিয়ে তোলে।
অন্যদিকে, যারা যোগাযোগ বন্ধ করেন, তাদের অনেকে অপরাধবোধ, লজ্জা ও অনুশোচনায় ভোগেন। বিশেষ করে ভুলে যাওয়া, ব্যস্ততা কিংবা উত্তর দিতে দেরি হওয়ার মতো অনিচ্ছাকৃত কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এমন অনুভূতি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর সঙ্গে বিষণ্নতার উপসর্গও যুক্ত হতে পারে বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ছোট একটি বার্তাও ভুল-বোঝাবুঝি কমাতে পারে। যেমন, ‘দুঃখিত, এখন কথা বলতে পারছি না’ এমন একটি বার্তা অপর পক্ষের অনিশ্চয়তা ও কষ্ট কমাতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষকদের মতে, অনলাইন যোগাযোগের বিস্তারের সঙ্গে ঘোস্টিং সহজ হয়ে উঠেছে। তাই সম্পর্কের ক্ষেত্রে নীরবে হারিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানানো এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
মূল প্রতিবেদনে যান ↗