নখের সমান ক্ষুদ্র মাছ ‘ড্যানিওনেলা’, শব্দ করে হাতির চেয়েও জোরে!
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মায়ানমারের নদী ও পাহাড়ি অঞ্চলের স্বচ্ছ পানিতে বাস করা ‘ড্যানিওনেলা সেরিব্রাম’ নামের নখের সমান ক্ষুদ্র এক মাছ। এই মাছ ১৪০ ডেসিবেলেরও বেশি তীব্র শব্দ উৎপন্ন করতে পারে। যা সাধারণত হাতির ডাক কিংবা বন্দুকের গুলির শব্দের সমান শক্তিশালী।
ড্যানিওনেলা সেরিব্রাম মাছটি মাত্র ১২ মিলিমিটার লম্বা। আকারে মানুষের নখের সমান। মায়ানমারের নদী ও পাহাড়ি বাগো ইয়োমা অঞ্চলের স্বচ্ছ পানিতে বাস করা এই বিস্ময়কর মাছটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মাছগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই প্রজাতিটি ১৪০ ডেসিবেলেরও বেশি জোরে আওয়াজ তৈরি করতে পারে যা একটি হাতির চেঁচামেচির সমান।
এই অদ্ভুত বিষয়টি প্রথম নজরে আসে ২০২১ সালে, যখন জার্মানির স্নায়ুবিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে গবেষণার জন্য ব্যবহার করা এক ক্ষুদ্র স্বচ্ছদেহী মাছ নিয়ে কাজ করছিলেন।
আরও পড়ুন
মাইক্রোস্কোপে পর্যবেক্ষণের সময় তারা বুঝতে পারেন, এটি আসলে আগে কখনো বর্ণিত হয়নি এমন এক নতুন প্রজাতি।
পরবর্তীতে কঙ্কাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় তারা সম্পূর্ণ নতুন এক প্রাণীর সঙ্গে কাজ করছেন। তাই এর নাম রাখা হয় ড্যানিওনেলা সেরিব্রাম। যেখানে ‘সেরিব্রাম’ শব্দটি এসেছে মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম থেকে, যা এই মাছটির স্নায়ুবিজ্ঞানে গুরুত্বের প্রতীক।
এই ক্ষুদ্র মাছটির শরীর প্রায় স্বচ্ছ এবং মাথায় খুলি নেই। ফলে এর ক্ষুদ্রতম মস্তিষ্ক সরাসরি দেখা যায়। এই কারণেই ড্যানিওনেলা সেরিব্রাম স্নায়ুবিজ্ঞানীদের কাছে এক মূল্যবান গবেষণার উপাদান। কারণ এটি পৃথিবীর সব কশেরুকপ্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট মস্তিষ্কের অধিকারী। কিন্তু এর আসল বিস্ময় লুকিয়ে আছে এর শব্দ উৎপাদনের ক্ষমতায়।
বার্লিনের শারিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মানির সেনকেনবার্গ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা উচ্চগতির ক্যামেরা, মাইক্রো-সিটি স্ক্যান ও জেনেটিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আবিষ্কার করেছেন, এই ছোট মাছের দেহে লুকিয়ে আছে এক জটিল ও অনন্য শব্দযন্ত্র।
এই যন্ত্রের মূল উপাদান তিনটি: একটি বিশেষ ধরনের ড্রামিং কার্টিলেজ, শক্তিশালী পাঁজরের হাড় এবং এমন এক পেশি যা দ্রুত কাজ করলেও সহজে ক্লান্ত হয় না।
মাছটি যখন এই পেশি সঙ্কুচিত করে, তখন পাঁজরের হাড়কে টেনে ধরে রাখে। পেশি শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়টি ছুটে গিয়ে কার্টিলেজে আঘাত করে এবং সেই ধাক্কা পৌঁছে যায় মাছের ভেতরের সুইম ব্লাডারে, যা এক ধরনের গ্যাসের থলি। এই সংঘর্ষেই তৈরি হয় প্রচণ্ড ড্রাম বাজানোর মতো শব্দ।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ মাছের পাঁজরের হাড় স্ত্রী মাছের তুলনায় অনেক বড় ও শক্ত, ফলে শুধুমাত্র পুরুষরাই এই আওয়াজ উৎপাদনে সক্ষম। স্ত্রী মাছ তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় তারা এত জোরে শব্দ করতে পারে না।
বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কেন এই ক্ষুদ্র মাছ এত জোরে আওয়াজ করে। তাদের ধারণা, ড্যানিওনেলা সেরিব্রাম ঘোলা ও কাদামাটি-মিশ্র পানিতে বাস করে বলে চোখের চেয়ে শব্দই তাদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। সম্ভবত তারা এই শব্দ ব্যবহার করে একে অপরকে খুঁজে পেতে অথবা এলাকা ও আধিপত্য রক্ষার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষদের সতর্ক করতে।
আরেকটি সম্ভাবনা হলো এটি সঙ্গী আকর্ষণের উপায়। অন্যান্য অনেক মাছ প্রজননের সময় সাঁতার থলি ব্যবহার করে আওয়াজ তোলে।
উদাহরণস্বরূপ, ব্ল্যাক ড্রাম মাছ প্রজননের সময় এমন জোরে গর্জন তোলে যে কখনও কখনও মানুষের ঘুম ভেঙে যায়, আর মিডশিপম্যান মাছ ১৩০ ডেসিবেলেরও বেশি শব্দ করে ডাকে তার সঙ্গিনীকে। কিন্তু ১২ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের ডি. সেরিব্রাম মাছের আওয়াজ তীব্রতা ও শক্তির বিচারে এদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই মাছের শব্দ উৎপাদনের ধরনও পরিবর্তনশীল। যখন কোনো মাছ দুই পাশের পেশি পালাক্রমে সংকুচিত করে সুইম বাড্ডার চাপে, তখন তৈরি হয় উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির আওয়াজ। আর একপাশের পেশি বারবার সক্রিয় হলে উৎপন্ন হয় নিচু ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ। এভাবেই তারা পানির নিচে নানা ধরনের ‘সংগীতধ্বনি’ তৈরি করে যেন এক ক্ষুদ্র সিম্ফনি চলছে অদৃশ্য জগতের গভীরে।
এই আবিষ্কার শুধু একটি অজানা মাছের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করেনি এটি আমাদের জানান দেয়, প্রকৃতিতে আকার আর ক্ষমতার মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। যেখানে একটি হাতির চেঁচামেচির শব্দ সর্বোচ্চ ১২৫ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছায়, সেখানে একটি নখের সমান ছোট প্রাণী তার চেয়েও জোরে আওয়াজ তুলতে পারে!
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ড্যানিওনেলা সেরিব্রাম নিয়ে এই গবেষণা কেবল শব্দ উৎপাদনের জৈবিক প্রক্রিয়া নয়, বরং প্রাণীদের আচরণ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিবর্তনজনিত অভিযোজন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।
বিশেষত স্নায়ুবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই স্বচ্ছদেহী মাছটি ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতি ও স্নায়ুপ্রেরণের গতিশীলতা বোঝার জন্য এক অনন্য গবেষণামডেল হতে পারে।
খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
লাফারু পৃথুলা মাকড়সা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ এএম
মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে সম্প্রতি দেখা পৃথুলা লাফারু মাকড়সা। ছবি: লেখক
-->কখনো কখনো একেকটি দিনকে বিশেষ দিন বলে মনে হয়। এ বছর ১৩ জুন দিনটিকে মাকড়সা দিবস বলে মনে হলো। কেননা, সেদিনের মতো অনেকগুলো প্রজাতির বিচিত্র রূপের মাকড়সার দেখা আর কখনো পাইনি। অথচ প্রতিবছর কোনো কোনো দেশে ১৪ মার্চকে মাকড়সা রক্ষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। এ ছাড়া ১০ অক্টোবরকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক লাফারু মাকড়সা দিবস’। ঢাকার মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের বিশাল বিশাল বৃক্ষের নিচে ঘাস-লতাপাতার বিস্তীর্ণ ঝোপ। বর্ষার পানি পেয়ে গাছগুলো বেশ বেড়ে উঠেছে। সেসব ঝোপঝাড়ের মধ্যেই সেদিন মনে হলো মাকড়সাদের মহোৎসব লেগে গেছে। যেদিকে খুঁজি সেদিকে একটা না একটা মাকড়সা। হোক সে তার স্বজাতি-স্বগোত্রীয় বা পরগোত্রীয়। একটা খুদে কিন্তু অদ্ভুত এক রকমের মাকড়সার দেখা পেলাম। একটি গাছের পাতার ওপর অস্থিরভাবে চলাচল করছে, যেন কুকুর দাবড়াচ্ছে তাকে। মাঝে মাঝে লাফ দিচ্ছে। চেহারাটা বেশ কর্কশ, বাদামি, রোমশ ভালুকের মতো। আটটি চোখের মধ্যে দুটি বড় চোখ যেন গাড়ির দুটি হেডলাটইটের মতো জ্বলছে, ভীষণ চকচকে, উজ্জ্বল ও স্পষ্ট।
ছবি তোলার কোনো সুযোগই পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ মনে হলো, নিশ্চয়ই সে কোনো শিকারের দেখা পেয়েছে। তাই পজিশন নিচ্ছে। সত্যিই তাই। ক্ষিপ্র গতিতে সে বসা থেকে লাফিয়ে পড়ল বেশ খানিকটা দূরে। একটি পোকাকে কবজা করে পাতার ওপর বসে পড়ল। মাকড়সাদের সাধারণ স্বভাবটা হলো, শিকার ধরার সঙ্গে সঙ্গেই ওরা খায় না। মাকড়সার চর্বণকারী দাঁত নেই। বিষদাঁত দিয়ে শিকারকে কামড়ানোর পর পরিপাককারী এনজাইমের সাহায্যে তার দেহের টিস্যু তরল করে নেয় এবং সেই তরল খাদ্য গ্রহণ করে। শিকারের দেহের মাংসকে স্যুপের মতো বানিয়ে চুষে চুষে খায়। এটিও তাই করল। শিকারের দেহে তার বিষদাঁত ফুটিয়ে দিল। যন্ত্রণায় শিকারটি ঝামটা মেরে সাঁড়াশির মতো আঁকড়ে ধরা পা থেকে নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল। কিন্তু নিষ্ফল সে প্রচেষ্টা। বিষের যন্ত্রণায় কাহিল ও শেষে নিস্তেজ হয়ে মাকড়সাটির হাতে নিজেকে সমর্পণ করল। এ কারণে কোনো মাকড়সা তার চেয়েও বড় আকারের শিকারকেও ঘায়েল ও কাহিল করতে পারে। একটু পরেই সে পোকার নিস্তেজ দেহ থেকে খাদ্য খেয়ে নিজের পেট ভরাল। সেটিই ছিল আমার ছবি তোলার মোক্ষম সুযোগ। উবু হয়ে সেখানে বসে মনে হলো, আমি যেন এইমাত্র ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলের কোনো শুটিং দেখলাম।
এ রকমের মাকড়সারা কখনো জাল বোনে না, ভবঘুরে স্বভাবের। হাঁটতেও যেন ওদের কষ্ট হয়। তাই নিজের দেহের দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক বেশি দূরত্বে লাফ দিতে পারে। এ কারণে এদের বলা হয় জাম্পিং স্পাইডার বা লাফারু মাকড়সা। লাফারু মাকড়সাগুলো সল্টিসিডি গোত্রের প্রাণী। এ গোত্রের মাকড়সা বেশি দেখা যায় আফ্রিকা, মাদাগাস্কার, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ায়, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এ গোত্রের ১২০টি প্রজাতির মাকড়সা নথিভুক্ত করা হয়েছে। দেখতে পাওয়া সে মাকড়সাটি ছিল হাইলাস গণের। ভারতে এ গণের ৭১টি প্রজাতি থাকলেও বাংলাদেশে তালিকাবদ্ধ করা গেছে মাত্র তিনটি প্রজাতি। Hyllus maskaranus এবং Hyllus diardi প্রজাতি দুটি আঞ্চলিকভাবে দৃশ্যমান। সারা দেশে প্রায় সর্বত্র দেখা যায় Hyllus semicupreus প্রজাতিটি, যার ইংরেজি নাম Heavy-bodied jumper বা Semi-coppered heavy jumper. এ দেশে এর কোনো বাংলা নাম পাওয়া যায়নি। তবে ড. শুভাশিস পালের লেখা ‘পশ্চিমবঙ্গের মাকড়সা’ বইয়ে এ প্রজাতির মাকড়সার বাংলা নাম দেওয়া
হয়েছে পৃথুলা। পৃথুলা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘পৃথুল’ থেকে, যার অর্থ স্থূল বা মোটা। সেদিক থেকে এ মাকড়সার দেহাবয়ব ও চেহারা দেখে এ নামকে অযথার্থ মনে হয়নি।
আরও পড়ুন
এত কথা যাকে নিয়ে, সেই মাকড়সার চেহারা আসলে কেমন, কতটুকুইবা বড়? বড়জোড় এক সেন্টিমিটার। গবেষকরা মেপে দেখেছেন যে এর পুরুষটির দৈর্ঘ্য ৭-৯ মিলিমিটার ও স্ত্রীর দৈর্ঘ্য ৮-৯ মিলিমিটার। এতটুকু মাকড়সা, কিন্তু তার দেহের যে রং ও রূপবৈচিত্র্য তার তুলনা নেই। পাগুলো সুঠাম, গাট্টাগোট্টা ও শক্তিশালী, লম্বা লম্বা পশমে ভরা, বাদামি। সারা দেহ কাঁটার মতো পশমে ঢাকা, রং হলদে-বাদামি। পায়ের চেয়ে মাথা ও পেটটাই যেন বড়। শিকার ধরার সময় মনে হলো আটটি পায়ের মধ্যে সামনের দুই জোড়া পা যেন হাতের মতো কাজ করে, শিকারকে বাঘের মতো শক্ত করে জাপটে ধরে।
গরমকালে এদের বেশি দেখা যায়, শীতে তেমন দেখাই যায় না। সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর বাঁচে। এরা প্রধানত গাছের বাকলের, পাতার ওপর, পতিত জমির ঝোপঝাড়ে ঘুরে বেড়ায় ও লাফিয়ে লাফিয়ে মশা, মাছি, মৌমাছি, ফড়িং, এমনকি অন্য মাকড়সাদেরও ধরে ধরে খায়। আর রাত হলে থাকার জন্য পাতার নিচে রেশমি সুতা দিয়ে ডিম্বাকার থলের মতো বাসা বানায়, সকালেই আবার সে বাসা ছিঁড়ে ভবঘুরের মতো বেরিয়ে পড়ে।
লেখক: কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ
আরও পড়ুন
ত্রিশালে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শাপলার রাজ্য
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
শাপলার সৌন্দর্য দেখতে নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সম্প্রতি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার গলহর বিলে । ছবি: খবরের কাগজ
-->যত দূর চোখ যায়, জলরাশিজুড়ে ফুটে আছে লাল শাপলা। প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের গলহর বিলে ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কেউ নৌকায়, কেউ কাদামাখা আইল পেরিয়ে ছুটছেন শাপলার কাছে। কেউ আবার ফুল হাতে ছবি তুলে ধরে রাখছেন মুগ্ধতার মুহূর্ত। তবে প্রকৃতির এই অপরূপ আয়োজন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করলেও ফুল ছেঁড়া, নৌকার বাড়তি ভাড়া এবং পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থার অভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর ও বীররামপুর ভাটিপাড়া গ্রামের এলাকায় অবস্থিত। এই বিলের আয়তন প্রায় ৭৫ একর। বর্ষা মৌসুমে বিলজুড়ে লাল শাপলা বেশি ফুটতে দেখা যায়। বর্ষা থেকে শরৎকাল পর্যন্ত পানির বুকে ফুটে থাকা শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কেউ নৌকায় ঘুরে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, কেউ আবার ক্যামেরায় ধরে রাখেন প্রকৃতির এই দৃশ্য।
ঘুরতে আসা পর্যটক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বলেন, ‘ফুলের সৌন্দর্য আমার কাছে সব সময়ই ভালো লাগে। কাছাকাছি দূরত্বে শাপলা ফুলের বিশাল সমাহার দেখে আমি অভিভূত। শত শত মানুষকে একসঙ্গে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।’
আরও পড়ুন
ফরিদা ও জাবেদ দম্পতি জানান, সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে সেই সৌন্দর্যেরই ক্ষতি করছেন অনেকে। দর্শনার্থীদের একাংশ ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি তোলার জন্য ফুল ছেঁড়া কিংবা হাতে ফুল নিয়ে স্মৃতি ধরে রাখার প্রবণতা বাড়লে বিলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও ফুলের বিস্তার–দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকৃতিকে দেখতে গিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করার এই প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বিলটির সৌন্দর্যও হারিয়ে যেতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে ফুল তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা দিলেই হবে না, তা বাস্তবায়নে নজরদারিও থাকতে হবে। দর্শনার্থীরা যাতে ফুল না ছিঁড়েও কাছ থেকে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করতে হবে।
প্রকৃতি জীবন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন রানা বলেন, ‘পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গলহর বিলের বিকাশ ঘটাতে হলে তাই শুধু যাতায়াতের সুবিধা বাড়ালেই চলবে না। নির্ধারিত নৌকাভাড়া, নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা, ফুল না ছেঁড়ার নির্দেশনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।’
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলন, ময়মনসিংহের সভাপতি অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ড. মো. শাহাব উদ্দীন বলেন, ‘প্রকৃতির সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রয়োজন যত্ন, সংযম ও দায়িত্বশীলতা। শুধু পরিচিতি বাড়লেই পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠে না; পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ চলাচল, নির্ধারিত নৌকাভাড়া, পর্যাপ্ত নির্দেশনা ও কার্যকর নজরদারি দরকার। তাহলে এটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফুল না ছেঁড়ার নির্দেশনা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক চিহ্ন এবং স্থানীয়দের পর্যটকসেবায় প্রশিক্ষিত করে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় সম্ভব।’
ফরিদুল ইসলাম নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা চাই, এই এলাকা একটি স্থায়ী পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হোক। এ জন্য প্রয়োজন ফুল সংরক্ষণ, অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রশাসন সহযোগিতা করলে কাজটি
আরও সহজ হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ হাসনাত জাহান বলেন, ‘বিলটি এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও ফুল সংরক্ষণে গ্রামপুলিশ মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে।’
আরও পড়ুন
পাখির গ্রাম উলিপুর
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম
দীঘিপাড়ের গাছগুলোতে শত শত শামুকখোল পাখি বসে আছে। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার উলিপুর গ্রামে। ছবি: খবরের কাগজ
-->ভোরের আলো ফুটতেই ডানা মেলে উড়তে শুরু করে শামুকখোলের দল। কেউ খাবারের খোঁজে যায়, কেউ ফিরে আসে বাসায়। দীঘিপাড়ের গাছের ডালে ডালে তাদের আনাগোনা। ছানাদের কিচিরমিচির আর পাখির ডানার শব্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। সিরাজগঞ্জের তাড়াশের উলিপুর গ্রামের এমন দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের কাছে গ্রামটি এখন ‘পাখির গ্রাম’ নামে পরিচিত।
তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে চলনবিলের পূর্বপাশে উলিপুর গ্রাম। স্থানীয়রা জানান, কয়েক শত বছরের পুরোনো প্রায় ১০০ বিঘা আয়তনের একটি দীঘিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গ্রামটি। গত কয়েক বছর ধরে দীঘিপাড়ের বটগাছসহ বিভিন্ন গাছে বাসা বেঁধেছে শত শত শামুকখোল পাখি। এ ছাড়া ত্রিশূলবক, বালিহাঁস, রাতচরা, নীলশির, কোড়া, লালশির, বড় সরালি ও ছোট সরালিসহ অনেক প্রজাতির পাখি রয়েছে এখানে। গ্রামের মাঠজুড়ে দেখা যায়, ডাহুক, গাঙচিল, বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, চখাচখি, কাদাখোঁচা, মাছরাঙা, সারসসহ নাম না জানা সব পাখি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীঘিপাড়ের গাছগুলোয় শত শত শামুকখোল পাখি। কোনোটি গাছের কচি পাতায় ঠোকর দিচ্ছে, কোনোটি ডালে বসে ছানাদের আগলে রাখছে, খাবার খাওয়াচ্ছে। আবার কোনোটি উড়ে যাচ্ছে এক ডাল থেকে অন্য ডালে। গাছের নিচে দাঁড়ালে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় একের পর এক পাখি।
আরও পড়ুন
উলিপুরের বাসিন্দা তফিজ উদ্দিন বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে অল্প কিছু শামুকখোল এখানে এসে বসবাস ও বাসা বাঁধতে শুরু করে। প্রতিবছর ডিম ফুটে বাচ্চা জন্ম নেওয়ায় পাখির সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। এখন পাখি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসেন।’
স্থানীয় যুবক রাঙ্গা সরকার বলেন, ‘গ্রামের কেউ পাখিদের ওপর অত্যাচার করেন না, শিকারও করেন না। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।’
একই গ্রামের সজীব সরকার বলেন, ‘প্রতিটি বাড়ির আশপাশের গাছগুলোতে পাখিরা বাস করে। দিন-রাত তাদের বিচরণ দেখতে ভালো লাগে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পাখি দেখতে আসেন। ছবি তোলেন, ভিডিও করেন। পাখিদের নিরাপত্তায় সরকার আরও ব্যবস্থা নিলে ভালো হবে।’
তাড়াশ মাগুরা বিনোদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারী আবুল কালাম বলেন, ‘প্রতিদিন অফিসে যাওয়া-আসার পথে পাখি দেখতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দেই। পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সবার উচিত পাখিদের ভালোবাসা।’
পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘একসঙ্গে এত শামুকখোল আগে কখনো দেখেননি। পাখিদের অবাধ বিচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। পাখির ছবি ও ভিডিও করেছি, এগুলো ফেসবুক পেজে প্রকাশ করব।’
পাখিদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘উলিপুরের পাখিগুলো এশীয় শামুকখোল। এটি সংরক্ষিত প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ পরিবেশ থাকায় পাখিগুলো এখানে বসবাস করছে এবং বংশবৃদ্ধি করছে। উঁচু গাছগুলো তাদের নিরাপদ আবাস তৈরি করেছে। তাই গাছগুলো কাটা থেকে বিরত থাকা উচিত।’
সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজপ্রাণী শামুকখোলের প্রধান খাবার। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ পাখি দেখা যায়। উপযুক্ত আবহাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে শামুকখোল সাধারণত একই এলাকায় থাকে। চলনবিল অঞ্চলে পর্যাপ্ত খাবার থাকায় পাখিগুলো এখানে বসবাস করছে।’
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ‘উলিপুরে পাখির উপস্থিতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জায়গাটিকে কীভাবে পাখির অভয়ারণ্য করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ যেন পাখি নিধন বা শিকার করতে না পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন
অনন্য কাঁটাহীন কাঁটামুকুট
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ এএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম
ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের বাংলাদেশ নার্সারিতে দেখা কাঁটাহীন কাঁটামুকুট -ছবি: লেখক
-->বৈচিত্র্যে ভরপুর প্রকৃতির উদ্ভিদজগৎ। কোনো উদ্ভিদের বাহারি পাতা, কোনোটির বিচিত্র গড়ন, আবার কোনোটির রঙিন ফুলের সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে। এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্ভিদ কাঁটাহীন কাঁটামুকুট। সাধারণ কাঁটামুকুটের কথা মনে এলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে কাঁটায় ভরা মোটা ডালপালা এবং তার ফাঁকে ফুটে থাকা ছোট ছোট রঙিন ফুল। তবে কাঁটাহীন কাঁটামুকুটের বিশেষত্ব হলো– এ উদ্ভিদের কাণ্ডে তীক্ষ্ণ কাঁটা নেই। কাঁটাহীন ডালপালা এবং তুলনামূলক কোমল গড়ন একে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। সবুজ পাতা আর উজ্জ্বল লাল ফুলের কারণে গাছটি সহজেই ফুলপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে এটি সংগ্রাহক ও বাগানপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
চলতি বছরের ২০ জুলাই ময়মনসিংহের কাচারিঘাটের বাংলাদেশ নার্সারিতে কাঁটাহীন কাঁটামুকুট দেখেছিলাম। আর সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে ফেললাম।
কাঁটাহীন কাঁটামুকুট বহুবর্ষজীবী গুল্ম। এর কাণ্ড শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুকূল পরিবেশে ঘন ঝোপের আকার ধারণ করে। কাণ্ড সাধারণত মসৃণ। গাছটি খুব দ্রুত লম্বা হয়ে ওঠার পরিবর্তে অনেক সময় ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে। তবে টবে চাষ করলে এর আকার অনেকটা নির্ভর করে টবের আয়তন, আলো, মাটি ও পরিচর্যার ওপর।
আরও পড়ুন
এ গাছের পাতাগুলো ডিম্বাকার থেকে উপবৃত্তাকার হয়ে থাকে। এগুলো সবুজ ও বেশ সতেজ দেখায়। পাতার বিন্যাস ও গড়ন গাছটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। এর ফুলের গঠনেও রয়েছে একটি মজার বৈশিষ্ট্য। ইউফোরবিয়া গণের অন্যান্য উদ্ভিদের মতো কাঁটাহীন কাঁটামুকুটের ফুলও অত্যন্ত ক্ষুদ্র হয়ে থাকে। গাছটির লালচে বা গোলাপি ফুলের মতো দৃশ্যমান অংশগুলো মূলত বর্ণিল ব্র্যাক্ট। এগুলোর কেন্দ্রে থাকে ক্ষুদ্র ফুলসমৃদ্ধ বিশেষ ধরনের পুষ্পবিন্যাস, যা দূর থেকে একটি ফুলের মতো দেখায়। আর ব্র্যাক্টের কেন্দ্রে এ উদ্ভিদের ছোট ছোট ফুল ফোটে। এই রঙিন অংশগুলো ক্ষুদ্র ফুলকে দৃশ্যমান করে এবং পরাগবাহীদের আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে। ফলে পুরো ফুলের গুচ্ছটি দেখতে একটি আকর্ষণীয় ফুলের মতো মনে হয়। আর ফুলের মৌসুমে গাছটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বাড়ির বারান্দা, ছাদবাগান কিংবা ছোট আঙিনায় শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে এটি চমৎকার সংযোজন হতে পারে। তবে কাঁটা না থাকলেই গাছটি সম্পূর্ণ নিরাপদ–এমন ধারণা ঠিক নয়। এর কাণ্ড বা পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাদা দুধের মতো কষ বের হয়, যা ত্বক ও চোখে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই গাছটি শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা বাঞ্ছনীয়।
কাঁটাহীন কাঁটামুকুটের আদিনিবাস উত্তর-পূর্ব মাদাগাস্কার। মাদাগাস্কার দ্বীপের নিজস্ব উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের মধ্যে বহু বিরল ও বিশেষ অভিযোজনসম্পন্ন প্রজাতি রয়েছে। এই উদ্ভিদও সেই বৈচিত্র্যের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধি। প্রাকৃতিক আবাসস্থলে এর বিস্তৃতি সীমিত হওয়ায় সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্ভিদের ইংরেজি নাম ‘Thornless Crown of Thorns’। এর বৈজ্ঞানিক নাম Euphorbia geroldii। এটি ইউফোরবিয়াসি (Euphorbiaceae) পরিবারের ইউফোরবিয়া (Euphorbia) গণের একটি উদ্ভিদ।
উজ্জ্বল ফুল ও সবুজ পাতার বৈপরীত্য গাছটিকে নান্দনিকভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে। অন্যান্য শোভাবর্ধক উদ্ভিদের সঙ্গে সাজিয়ে রাখলে বাগানে রঙের বৈচিত্র্য তৈরি হয়। তবে ঘরের অন্ধকার কোণের চেয়ে রোদেলা বারান্দা বা আলো-বাতাস চলাচল করে এমন স্থান এর জন্য বেশি উপযোগী। পর্যাপ্ত আলো পেলে গাছটি ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
এই উদ্ভিদের পরিচর্যায় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। গাছটির জন্য এমন মাটি নির্বাচন করতে হবে, যাতে পানি সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। পানি জমে থাকলে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই টবের নিচে পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকা জরুরি।
লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ
