বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। গতকালের এ ঘটনার পর বিষয়টি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি তারকাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউড তারকাদের বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ তালিকায় রয়েছে—অভিনেতা, পরিচালক, গায়ক, সোশ্যাল মিডিয়া তারকাও রয়েছেন। চলুন জেনে নিই, কোন কোন তারকা এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন—
টাইগার শ্রফ
বাবা জ্যাকি শ্রফের পথ অনুসরণ করে অভিনয়ে পা রাখেন টাইগার শ্রফ। ভদ্র-বিনয়ী হিসেবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তার সুনাম রয়েছে। তারও শত্রু থাকতে পারে, এ কথা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেউই বিশ্বাস করেন না! অথচ গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বন্দুকধারীরা। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে টাইগার কিছুটা আহত হলেও তার গাড়িচালকসহ একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হন।
সালমান খান
বলিউডের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর সালমান খান। তার সঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল। এদিন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। গভীর রাতে বাইকে করে এসে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। পরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনায় পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর সালমান খানের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়।
রাকেশ রোশান
বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশানের বাবা জনপ্রিয় পরিচালক রাকেশ রোশানও বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। ২০০০ সালের ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের পশ্চিম সান্তাক্রুজ এলাকার তিলক রোডে নিজ অফিসের কাছে এ ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাত দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তার বাঁ হাতে একটি গুলি লাগে, অন্য একটি গুলি তার বুকের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে এ যাত্রায় বেঁচে যান রাকেশ রোশান।
গুলশান কুমার
টি-সিরিজের প্রতিষ্ঠাতা গুলশান কুমার বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হন। ১৯৯৭ সালের আগস্টে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি এলাকায় অবস্থিত জিতেশ্বর মহাদেব মন্দিরের বাইরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যা করতে হামলাকারীরা ১৬ রাউন্ড গুলি খরচ করেছিল।
দিশা পাটানি
এ তালিকায় বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানিও রয়েছেন। ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে দিশা পাটানির বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৮–১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এই হামলার পেছনে গোল্ডি ব্রার গ্যাং জড়িত ছিল, যা দিশার বোনের সঙ্গে যুক্ত কোনো বিবাদের ফসল। এ ঘটনা প্রমাণ করে মুম্বাইয়ের বাইরে বসবাসরত তারকাদের পরিবারও নিরাপদ নয়।
এলভিশ যাদব
‘বিগ বস ওটিটি টু’ বিজয়ী ইউটিউবার এলভিশ যাদব। এই তারকাও বিপদের মুখে পড়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট, গুরুগ্রামে তার বাড়িতে ২৪ রাউন্ডের বেশি গুলি চালানো হয়। মোটরসাইকেলযোগে তিনজন ব্যক্তি এসে এ ঘটনা ঘটায়। ভাগ্যক্রমে, এলভিশ তখন বাড়িতে ছিলেন না। তবে তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরে ছিলেন। যদিও এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে দ্য বহু গ্যাং এ ঘটনার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কঙ্গনা রাণৌত
বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রাণৌত। স্পষ্ট ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এ অভিনেত্রীর বাসভবনের বাইরেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের আগস্টে মধ্যরাতে হিমাচল প্রদেশের মানালির বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও কেউ আহত হননি। তবু এ ঘটনা আশঙ্কা বাড়ায় যে, স্পষ্টভাষী তারকারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
রাজীব রাই
‘গুপ্ত’-এর মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি কুড়ান পরিচালক রাজীব রাই। ১৯৯৭ সালে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েন এই নির্মাতা। সে সময় মুম্বাইয়ের মধ্যাঞ্চলে আবু সালেম গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত পাঁচজন হামলাকারী তার ওপর হামলা চালায়। রাজীব রাই যখন তার অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন হামলাকারীরা তার ওপরে গুলি ছোড়ে। তবে এ যাত্রায় বেঁচে যান রাজীব রাই। কারণ পূর্বেই হত্যার হুমকি পাওয়ায় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হন। জানা যায়, এই সংঘর্ষের সময়ে হামলাকারীদের একজন আহত হয়েছিল।
এপি ধিলন
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কানাডায় পাঞ্জাবি গায়ক এপি ধিলনের বাড়ির বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। যদিও এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সহযোগী এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন তদন্তকারীরা। বলিউডের সঙ্গে গায়কের যোগাযোগের কারণে এই হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিজিৎ কিংরা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
কপিল শর্মা
ভারতীয় কমেডিয়ান কপিল শর্মা। তার মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁ কানাডায় রয়েছে। গত বছরের ১০ জুলাই সেই রেস্তোরাঁর বাইরে গুলি চালানো হয়। একটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলি চালায় এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে কানাডিয়ান পুলিশ গাড়ির সূত্র ধরে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। এই শুটারের নাম মানসিং সেখন। হামলা চালিয়ে ভারতে ফিরে যান মানসিং। ভারতে ফেরার পরই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখন গোল্ডি ব্রার গ্যাংয়ের সদস্য।
*ইন্ডিয়া ডটকম, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এএনআই, দি ইকোনোমিক টাইমস অবলম্বনে
