আজকাল ওয়েবডেস্ক: সমুদ্রের অতলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে সদ্যোজাত প্রাণীটি। কিন্তু তাকে কিছুতেই ছেড়ে যেতে পারছে না মা। বারবার নিথর দেহ বুকে টেনে নেওয়ার আকুল চেষ্টা। মানুষের মতো অন্য প্রাণীরাও কি তাহলে প্রিয় হারানোর শোকে মুহ্যমান হয়?
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে ক্যামেরাবন্দি হয়েছে এমনই এক মর্মস্পর্শী দৃশ্য। এটি রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে বিজ্ঞানীদের।
ঘটনাটি গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৭ জুলাইয়ের। পাম বিচ সংলগ্ন সমুদ্রের বুকে প্রথমে দুটি পূর্ণবয়স্ক হাম্পব্যাক তিমিকে ভেসে থাকতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই সেখানে জন্ম নেয় এক তিমির শাবক। কিন্তু জন্মের পরই দেখা যায় এক মর্মান্তিক দৃশ্য।
দেখা যায়, শাবকটির শরীরে প্রাণের কোনও সাড়া নেই, চলছে না কোনও শ্বাসপ্রশ্বাসও। মুহূর্তের মধ্যে সেটি তলিয়ে যেতে শুরু করে সমুদ্রের গভীরে।
আর ঠিক তার পরেই শুরু হয় মা তিমির হাহাকার। গবেষকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, বারবার সমুদ্রের তলদেশে নেমে যাচ্ছে মা তিমিটি। কখনও মাথার ধাক্কায়, কখনও বুকের লম্বা পাখনা দিয়ে প্রাণহীন সন্তানকে স্পর্শ করার চেষ্টা করছে সে।
এরপর শাবকের মুখের একদম কাছে গিয়ে নিজের চোখ দুটি স্থির করে তাকিয়ে থাকছে তার দিকে। একটানা প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে এই দৃশ্য নজরে রাখেন গবেষকরা। এমনকী, ঘটনার পর আগামী দু'দিনও ওই চত্বরেই দুটি বড় তিমিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
https://www.youtube.com/watch?v=niKbkoeEkKI
গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই পর্যবেক্ষণ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে 'ডিসকভার অ্যানিম্যালস' নামক বিজ্ঞান পত্রিকায়।
বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, মৃত শাবককে নিয়ে এমন আবেগপ্রবণ আচরণ অতীতে দেখা গেলেও, হাম্পব্যাক বা তিমির ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিরল।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তিমিটি কি সত্যিই মানুষের মতো শোকে ভেঙে পড়েছিল, নাকি এটি স্রেফ সহজাত মাতৃত্বের তাগিদে তৈরি হওয়া কোনও স্বাভাবিক প্রবৃত্তি? উত্তর অধরা।
