বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ নিয়ে অবশেষে সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। হৃদ্যন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ফলেই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সেই কারণ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক প্রবীণ চিকিৎসক।
৭৫ বছর বয়সে গত ৮ অক্টোবর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বলিউড তথা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ। প্রাথমিকভাবে অভিনেতার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। ১১ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, হৃদ্যন্ত্রের বাম দিকের প্রধান করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক হয় অভিনেতার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন’।
অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Acute Myocardial Infarction বা AMI) সাধারণ ভাষায় হার্ট অ্যাটাক। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে (করোনারি ধমনী) হঠাৎ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বা মারাত্মকভাবে কমে গেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেনের অভাবে হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে বা মারা যেতে শুরু করে। এটি একটি জীবনঘাতী জরুরি চিকিৎসা অবস্থা।
এই সময় কী হয়?
* বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি: বুকে প্রচণ্ড চাপ, ভারী ভাব বা মোচড় দেওয়ার মতো ব্যথা।
* ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে: ব্যথা বুক থেকে বাম হাত, কাঁধ, চোয়াল, ঘাড় বা পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
* অন্যান্য উপসর্গ: অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা দুর্বলতা।
কেন হয়?
* ধমনীতে ব্লকেজ: কোলেস্টেরল ও চর্বি জমার কারণে রক্তনালীতে প্লাক তৈরি হয়। কোনো কারণে সেই প্লাক ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধলে (থ্রম্বোসিস) রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
* ঝুঁকির কারণ: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং বয়স (পুরুষদের ক্ষেত্রে ৪৫ ও নারীদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছরের বেশি হলে এই ঝুঁকি দেখা যায়)।
এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে। রক্তপ্রবাহ দ্রুত চালুর জন্য চিকিৎসকরা অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য ওষুধ, থ্রম্বোলাইটিক থেরাপি, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং অথবা সিএবিজি (CABG বা বাইপাস সার্জারি) করে থাকেন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক করোনারি আর্টারি ডিজিজের কারণে ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। ৮ অক্টোবর ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর দেন। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভোর ৫টা ১০ মিনিটে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কখনও খলনায়ক, আবার কখনও কমেডি, বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় নিজের অভিনয়ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন এই অভিনেতা। তাঁর অভিনয়জীবনে রয়েছে একাধিক জাতীয় পুরস্কার এবং পদ্মশ্রী সম্মানও। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। তাঁর ছেলে মালহার জানিয়েছেন, বাবার শুরু করা ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও তাঁরা পালন করবেন। জল সংরক্ষণ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে এই সংস্থা। অভিনেতার প্রয়াণে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
