কালবেলা · রাজনীতি
সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই: জামায়াত আমির
২২/১০/২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি এবং প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকে পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না ছুটে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’
সাজেকে গোলাগুলি ও পর্যটক সংকট
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাজেকের উজো বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়। সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে সেখানে আটকে পড়েছিলেন প্রায় দুই হাজার পর্যটক।
সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় আটক পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করানো হলে উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়েন তারা। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে সড়ক মুক্ত করলে বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজো বাজার এলাকা ত্যাগ করে। তবে এর আধা ঘণ্টার মধ্যেই এলাকাটিতে দফায় দফায় গোলাগুলি শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
এদিকে, উদ্ভূত নিরাপত্তার কারণে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বারবার অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘটনায় সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় অধিবাসীরা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗