মার্কিন ডলার শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং ডলারের সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই দরপতন ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে সরাসরি স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৬৪ ডলার ৪৫ সেন্টে। এর আগে গত কার্যদিবসে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চার হাজার ২১৭ ডলারে উঠেছিল।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে মার্কিন ডলারের মান দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সাধারণত ডলারের মান শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায় এবং দরপতন ঘটে।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের দিকে। এই প্রতিবেদনগুলোর ওপর ভিত্তি করেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে নাকি বাড়াবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবর মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি বছরের শেষ দিকে ফেড আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে। এই ধারণার প্রভাবেই স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ ডলার এক সেন্টে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮২ ডলার ৪৭ সেন্টে।
