আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমাতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণের উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
বিজ্ঞাপন
রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া একই বৈঠকে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত ‘রটারডাম কনভেনশন’-এ বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত এই অধ্যাদেশের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী গ্রীষ্মের আগেই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার ছাদে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ (রফটপ সোলার) স্থাপনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ইতিমধ্যে এর জন্য আকর্ষণীয় প্রণোদনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীর সম্পূর্ণ অর্থায়নে অর্থাৎ ‘ওপেক্স’ (OPEX) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পর্যাপ্ত তহবিল বা আয় রয়েছে, সেগুলোকে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লাভের কথা বিবেচনা করে ‘ক্যাপেক্স’ (CAPEX) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নাসিমুল গনি আরও বলেন, ওপেক্স মডেলে নির্দিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ১৫ বছর মেয়াদে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে পূর্বে কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বা বিধিবিধান ছিল না। একইভাবে ক্যাপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতে স্পষ্ট বিধান না থাকায় সকল আইনি জটিলতা দূর করতে এই নতুন অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
