Published on
:
2 min read
এই সময়: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ইস্যুতে দেশজুড়ে আন্দোলনের মধ্যে সপ্তাহ দেড়েক আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া মন্তব্য করেছিলেন— যদি কোনও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বাতিল হয়, তা হলে তাকে কোনও প্রশাসন বা বিচারব্যবস্থা অনুমোদন দিতে পারে না।
প্রায় একই সুরে সরব হয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রোহিংটন নরিম্যানও। বুধবার মুখ খুললেন সুপ্রিম কোর্টের আর এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ। মঙ্গলবার কেরালা হাইকোর্ট চেম্বার কমপ্লেক্সে 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব লইয়ার্স' (আইএএল)-এর উদ্যোগে আয়োজিত 'ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কি বিপন্ন?' শীর্ষক এক সম্মেলনে এই এক্স জাস্টিসের মন্তব্য— 'গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয়ে আদালত শুধুমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত থাকতে পারে না। আদালতের হস্তক্ষেপ যদি গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।'
এই প্রসঙ্গে এক্স জাস্টিস কুরিয়েন একটি ইংরেজি প্রবাদও তুলে ধরেন— 'বার্কিং ডগ সেলডম বাইটস'। অর্থাৎ, ঘেউ ঘেউ করা কুকুর সচরাচর কামড়ায় না। তাঁর কথায়, 'সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের সতর্কবার্তা বা ডাক যদি প্রত্যাশিত ফল না–দেয়, তা হলে গণতন্ত্রের স্বার্থে আদালতের 'কামড়ানো' অর্থাৎ বলিষ্ঠ পদক্ষেপ করাই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।'
তিনি স্পষ্ট করেন— মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কোনও ব্যক্তি নন, বরং একটি প্রতিষ্ঠান। সাংবিধানিক এই শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তির সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও আপস হলে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নষ্ট হয়, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য কার্যত এক চরম অশনি সংকেত। তাই নির্বাচন কমিশনের স্বশাসন সুরক্ষিত রাখতে কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও চাকরির শর্তাবলিতে সাংবিধানিক সংশোধনের পক্ষে মত দেন তিনি।
প্রয়াত রামমনোহর লোহিয়াকে উদ্ধৃত করে বিচারপতি জোসেফ স্মরণ করিয়ে দেন, 'সংসদ ও আদালত ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষের রাজপথের লড়াই-ই গণতন্ত্রের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ায়।' প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হওয়ায় নাগরিকদেরও সচেতন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুরক্ষায় এগিয়ে আসার দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ দিকে, সার প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা, সাংবিধানিক বৈধতা এবং সামগ্রিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন বিচারপতি ও প্রবীণ আইনজ্ঞদের একটি স্বাধীন কমিশন আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই গণশুনানি শুরু করতে চলেছে। নয়াদিল্লির জওহর ভবনে এই প্রকাশ্য গণশুনানি শুরু হওয়ার কথা। সেখানে 'সার' প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ভোটারদের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা সরাসরি শোনা হবে। 'লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন' (এলএএফসি)-এর উদ্যোগে গঠিত এই নাগরিক কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন বি লোকুর। ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানির রিপোর্ট তৈরি করবে তারা।