ল্যাপটপের দাম কমানো, বাড়িভাড়ার চুক্তিতে মধ্যস্থতা করা কিংবা নতুন চাকরির বেতন বাড়ানো—এবার এসব দরকষাকষির কাজ মানুষের হয়ে নিজ থেকেই সম্পন্ন করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। গ্রাহকদের জন্য সেরা সুবিধাটি ছিনিয়ে আনতে এমন বিশেষ ‘এআই এজেন্ট’ তৈরির সম্ভাবনার ওপর কাজ শুরু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিক’।
এআই এজেন্ট যেন সব আইনি ও নৈতিক সীমা মেনে ব্যবহারকারীর সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে, সে লক্ষ্যে পেশাদার আইনজীবীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ইন্ডিয়া টুডে ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এআই এজেন্টকে ঠিক কতটুকু স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে সরাসরি মালিকের অনুমতি নিতে হবে, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
যেভাবে পরিচালনা করা হবে এই এআই এজেন্ট: ধরা যাক, একজন ক্রেতা কম মূল্যে ল্যাপটপ কিনতে চান। এই এআই এজেন্ট শুধু বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের দামের তুলনাই করবে না, বরং বিক্রেতার এআই এজেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে দরদাম করার চেষ্টা করবে। একই প্রক্রিয়ায় বাসাভাড়ার শর্ত, গ্রাহকসেবা এবং চাকরির বেতন নিয়েও দরকষাকষি করতে পারবে এটি।
তবে এতে একটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা ভাবছেন বিশ্লেষকরা। ক্রেতার এআই চাইবে সর্বোচ্চ কম দাম নির্ধারণ করতে, অন্যদিকে বিক্রেতার এআই চেষ্টা করবে সর্বোচ্চ দামে পণ্য বিক্রি করতে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যানথ্রপিক ‘দরকষাকষির নীতি’ (Negotiation Norms) চালুর পরিকল্পনা করছে। প্রয়োজনে ব্যবহারকারীর স্বাক্ষরযুক্ত সনদের মাধ্যমে এআই এজেন্টের ক্ষমতার সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
দরকষাকষিতে কঠোর এআই কি বেশি সফল? গত সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রপিকের এক গবেষণায় দেখা যায়, বাজারে ভার্চ্যুয়ালি বই কেনাবেচার ক্ষেত্রে যেসব এআই এজেন্টকে বেশ কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তারা অপেক্ষাকৃত লাভজনক চুক্তি করতে পেরেছে। আবার নমনীয় এআই এজেন্টগুলো সমঝোতার তাগিতে নিজেদের কিছু সুবিধা ছেড়ে দিয়েছে।
এদিকে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক মিশেল ভাকারো ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি এআই সমঝোতার ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, অনেক ক্ষেত্রে একটি এআই প্রযুক্তি কৌশলে অন্য এআইয়ের গোপন তথ্য বের করার অপচেষ্টা চালায়, যা ‘প্রম্পট ইনজেকশন’ নামে পরিচিত।
প্রযুক্তির সুবিধা ও বৈষম্যের আশঙ্কা: বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের নাগালের ভেতর আসলে তারা কোনো পেশাদার সহায়তা ছাড়াই বাজারে ভালো সুযোগ বা ছাড় পাবেন। কিন্তু এই প্রযুক্তি যদি কেবল ধনকুবের বা বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কবজায় থাকে, তবে বাজারে বৈষম্য সৃষ্টির শঙ্কা থেকেই যায়।
যেহেতু মানুষের হয়ে লেনদেন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি কাঠামো এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি, তাই ভবিষ্যতে এআইকে আরও বুদ্ধিমান করার পাশাপাশি এর কাজের সীমা, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন অ্যানথ্রপিকের প্রধান লক্ষ্য।
