বাংলাদেশি ইউটিউব সিরিজ ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ ঘিরে নকলের অভিযোগ উঠেছে। পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘শেইদাই’-এর গল্পের সঙ্গে সিরিজটির কাহিনি ও কয়েকটি দৃশ্যের মিল রয়েছে বলে দাবি করছেন দর্শকদের একাংশ। তানভীর তন্ময় পরিচালিত সিরিজটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। নতুন জুটির পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও গল্পের মৌলিকতা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
গত ১৩ অক্টোবর ইউটিউবে সিরিজটির প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয়। পরদিন মুক্তি পায় দ্বিতীয় পর্ব। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রথম প্রেমের গল্প’-এর সঙ্গে পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘শেইদাই’-এর তুলনা শুরু করেন দর্শকেরা। তাঁদের অভিযোগ, দুই কাজের মধ্যে শুধু কাহিনির নয়, কিছু দৃশ্য ও চরিত্রের উপস্থাপনাতেও মিল রয়েছে।
বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে সিরিজটির চিত্রনাট্য ও গল্পের লেখককে ঘিরে। দর্শকদের একাংশের দাবি, সিরিজটির পোস্টার এবং ইউটিউবে প্রকাশিত শিল্পী-কুশলীদের তালিকায় কোনো চিত্রনাট্যকার বা মূল গল্পের লেখকের নাম উল্লেখ নেই। এ কারণে ‘প্রথম প্রেমের গল্প’-এর কাহিনি কে লিখেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সিরিজটির গল্পে উঠে এসেছে করপোরেট জগতের দ্বন্দ্ব, প্রেম, পারিবারিক রহস্য ও অতীতের প্রতিশোধের ঘটনা। এতে শিল্পপতি ফাইয়াজ চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর। অন্যদিকে মেহনাজ কবিরের ভূমিকায় রয়েছেন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এ ছাড়া সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন ফারিন খান, আলীরাজ, সালমা বেগম সুজাতা, শতাব্দী ওয়াদুদ ও ফারজানা চুমকিসহ আরও অনেকে।
সিরিজটি মুক্তির আগে দুই অভিনয়শিল্পীকে ভিন্নভাবে পর্দায় উপস্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন পরিচালক তানভীর তন্ময়। বিশেষ করে নিলয় আলমগীরকে তাঁর পরিচিত হাস্যরসাত্মক চরিত্রের বাইরে নতুন এক রূপে তুলে ধরার কথা বলেছিলেন তিনি। তবে সিরিজটি প্রকাশের পর সেই উপস্থাপনার পাশাপাশি গল্পের মৌলিকতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিদেশি নাটক বা সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় প্রেক্ষাপটে নতুন গল্প নির্মাণ বিনোদনজগতে অস্বাভাবিক নয়। তবে কোনো কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া, স্বত্বাধিকারীর অনুমতি নিয়ে সেটির রূপান্তর করা এবং মূল গল্প বা দৃশ্য নকল করার অভিযোগ—বিষয়গুলো এক নয়। গল্প বা দৃশ্যের সাদৃশ্য থাকলেই চূড়ান্তভাবে নকলের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ক্ষেত্রে দুই নির্মাণের বিস্তারিত তুলনা, স্বত্বাধিকারসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নির্মাতাদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ইউটিউব ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সুবাদে বাংলাদেশের দর্শকেরা সহজেই ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাটক ও ধারাবাহিক দেখতে পারছেন। ফলে দেশীয় কোনো নির্মাণের সঙ্গে বিদেশি কাজের মিল থাকলে তা দর্শকদের নজরে আসার সম্ভাবনাও বাড়ছে।
‘প্রথম প্রেমের গল্প’ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা পক্ষের বক্তব্য এবং দুই সিরিজের বিস্তারিত তুলনা ছাড়া নকলের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
