

সোনারগাঁয়ে বাড়ি ফেরার পথে যুবদল নেতা জহির ফকিরকে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকির (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে সোনারগাঁওয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জহির ফকির আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছিলেন।
কালাপাহাড়িয়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। তাঁর নিজ বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশাপাশি সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তাঁর একটি ফার্মেসির দোকান ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় দুর্বৃত্তরা ধারালো চাপাতি দিয়ে জহির ফকিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সড়কে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছিল।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. বারিক (পিপিএম) জানান- নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।
টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু
গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- মুদাফা মাস্টারপাড়া এলাকার লালচান মিয়া (৬০) ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম (৫০)। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন আছেন তাঁদের মেয়ে তানিশা(১৬)। টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরে রান্নার প্রস্তুতির সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে লালচান মিয়া ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে ঢামেকে মারা গেছেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে রান্নার জন্য নাছিমা বেগম গ্যাসের চুলা জ্বালালে হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে পুরো রান্নাঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নাছিমা বেগম, তার স্বামী লালচান মিয়া এবং মেয়ে তানিশা দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাদের ডাকচিকৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঠান।

যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, নিয়োগ বাতিলের দাবি পাঁচ এমপির
যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক পরিচয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেককে সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি, মাদক কারবারে আটকের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে সৎ ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন পাঁচ সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ সংসদ সদস্যের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শ ও সুপারিশ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক সরকারদলীয় ব্যক্তিদের দেওয়া তালিকা চূড়ান্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং কৃষির সঙ্গে তাঁদের বাস্তব সম্পৃক্ততার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন সংসদ সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, সার ডিলার নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উপকরণের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক গোলাম রছুল কয়েকজন ডিলারের নাম উল্লেখ করে তাঁদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়ারী ইউনিয়নের হাবিবুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমানকে সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ব্যাংক ডাকাতি ও প্রতারণাসংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমন অভিযোগ ও মামলার বিষয় থাকা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তিকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া মনিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেলকে ডিলারশিপ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন অধ্যাপক গোলাম রছুল। তিনি দাবি করেন, মাসুদ পারভেজ রুবেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। একই সঙ্গে মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সালাউদ্দীনের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। সংসদ সদস্যের এসব বক্তব্যের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার, প্রশাসন কিংবা কৃষি বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে শুধু ডিলার নিয়োগ নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানান সংসদ সদস্যরা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এসব কমিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণ না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। সংসদ সদস্যদের দাবি, কৃষি খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিবর্তে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের কমিটিতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, সার ও বীজের সরবরাহ, বিতরণ, বাজার পরিস্থিতি এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এসব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাঁরা আরও বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও মনিটরিং কমিটি গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে কৃষি উপকরণ বিতরণব্যবস্থায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে প্রকৃত কৃষক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন,সার কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সময়মতো এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়ম প্রাধান্য পেলে কৃষকদের প্রকৃত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণের সুষ্ঠু বিতরণব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা। বক্তারা বলেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগের কারণে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ সংসদ সদস্যের পক্ষে অধ্যাপক গোলাম রছুল বর্তমান সার ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেসব নিয়োগের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিল করে সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হবে। তাঁরা আরও দাবি করেন, সার ডিলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশের পরিবর্তে নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের যথাযথ অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে সার ডিলার নিয়োগে কথিত দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কৃষি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকৃত, সৎ ও যোগ্য ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর, সহসেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, যশোর জেলা প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপুরে বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে অশ্রুসজল বিদায়
পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণ, পূজার ঘণ্টা, ঢাকের তাল, ধূপ আর ফুলের অঞ্জলিতে দেবী দুর্গাকে বিদায়। ছয় দিনের পূজোর আনন্দ শেষে বিজয়া দশমী। বিজয়া দশমী‘র বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন করেন এবং দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরবির্ততে, দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ আর সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। আনন্দের আড়ালে বিদায়ের বিষাদ। আবার এক বছর পর দেবীর আগমনের প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে মন্দিরজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। এসময় বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রদীপ জ্বালিয়ে, ধূপ-ফুল, বেলপাতাসহ বিভিন্ন উপাচারে দেবীর চরণে শেষবারের মতো অর্ঘ্য নিবেদন করেন তাঁরা। প্রার্থনায় উঠে আসে পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সবার সুস্থতা ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধির কামনা। দেবীর দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর শাস্ত্রীয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে সুমেশ্বরী নদীর ঘাটে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় দেবীকে বরণ ও সিঁদুর খেলার আয়োজন। এ সময় ভক্তরা দেবীর কপালে ও পায়ে সিঁদুর ছুঁইয়ে প্রণাম করেন। লাল সিঁদুরে রাঙা মুখ, হাসি আর চোখের কোণে জমে থাকা জলÑসব মিলিয়ে বিদায়ের মুহূর্তে উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়ে মন্দির প্রাঙ্গণে। দেবীর বিদায়ে মন খারাপ হলেও উৎসবের আনন্দে শামিল হন দুর্গাপুর উকিল পাড়ার এলাকার অদিতি সরকার সিঁথি। তিনি বলেন, মা চলে গেছেন, তাই মনটা একটু খারাপ। তবু আমরা এটাকে উদ্যাপন করছি। আসছে বছর আবার হবে, এই প্রত্যাশা। মায়ের কাছে আমার চাওয়া, সবাই যেন সুস্থ থাকে, দেশের ভালো কিছু হয়, পরিবারের সবাই ভালো থাকুক, এই প্রার্থনা করি। মন্দির-মণ্ডপেও চলছে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় ভক্তদের মনে বাজছে বিষাদের সুর। দেবীর চরণে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, সিঁদুর দিয়ে বরণ ও আশীর্বাদ প্রার্থনায় ব্যস্ত ভক্তরা। অন্যদিকে লালপেড়ে শাড়ি পরা নারীরা একে অপরের কপালে ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে মেতে উঠছেন সিঁদুর খেলায়। ঢাকের বাদ্য,শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠছে মন্দির প্রাঙ্গণ। একদিকে সিঁদুর খেলার আনন্দ,অন্যদিকে দেবীকে বিদায় জানানোর বিষাদ। আনন্দ-বেদনার মিশেলে চলছে বিজয়া দশমী। উপজেলা পূজা উৎযাপন ফ্রন্ট এর আহবায়ক শুভেন্দু সরকার পিন্টু বলেন, আজ দশমী পূজা হয়েছে। পূজার পরে সবাই অঞ্জলি দিয়েছে। অঞ্জলির পরে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর পূজারিরা সুমেশ্বরী নদীর ঘাটে ঘট বিসর্জন দিয়েছেন। এবার কোন প্রকার অ-প্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপুর্ন ভাবে শারদীয় শেষ করতে পেরেছি। এনিয়ে তরুণ ক্লাবে সভাপতি ধনেশ পত্রনবীশ বলেন, প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সপ্তমী তিথিতে দেবীর চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে প্রতিমায় দেবীর উপস্থিতি আহ্বান করা হয়। আর দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিমার পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। সিঁদুর খেলা আনন্দ-উৎসবের অংশ। নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় সিঁদুর বিনিময় করেন। সব মিলিয়ে সুন্দর ভাবে দুর্গাপুজা শেষ হয়েছে। আমি ধন্যবাদ দেই উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা ও পৌর বিএনপি‘র নেতাকর্মীদের। বিভিন্ন মন্দিরে বরণ ও সিঁদুর খেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুর্গাপুরের বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে দশভুজা মন্দিরে নেয়া হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে প্রতিমা নেয়া হয় সুমেশ্বরী ঘাটে। পরবর্তিতে সোমেশ্বরী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। উপজেলা পূজা কমিটির সভাপতি এডভোকেট মানেশ চন্দ্র সাহা বলেন, আমি প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই মাননীয় ডেপটি স্পিকার মহোদয় কে যিনি এতো সুন্দর নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করেছেন। সেইসাথে ধন্যবাদ দিতে চাই, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা ও পৌর বিএনপি‘র নেতাকর্মীদের যারা পুজো চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ভাবে আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। এবার কোন প্রকার অ-প্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপুর্ন ভাবে শারদীয় উৎসব শেষ করতে পেরেছি। সেজন্য সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এ বছর ৫৯টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন হয়েছে। দেশ ও জাতীর কল্যানে মায়ের কাছে প্রার্থনা, সবাই যেন সুস্থ থাকে, দেশের ভালো কিছু হয়, পরিবারের সবাই ভালো থাকুক, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ভ্রাতৃত্ত্বের বন্ধন অটুট থাকুক এই কামনা করছি।

দুর্গাপুরে বিজয়া পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
শারদীয় উৎসবের বিজয়া দশমী আজ। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্ত পূণ্যার্থীরা। এ উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিজয়া দশমীর দিনে শুভ বিজয়া পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক, মণিসিংহ মেলা উদযাপন কমিটির আহবায়ক কমরেড ডা: দিবালোক সিংহের আয়োজনে এ কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়। ভ্রাতৃত্বেরবন্ধন ও পরস্পরের সাথে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা বিনিময় কালে সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপনে প্রতিবছর ব্যক্তিগত উদ্দ্যেগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি এতে নানা শ্রেনী পেশার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ডাঃ দিবালোক সিংহের সভাপতিত্বে, সিপিবি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি‘র সিনিয়র সহ:সভাপতি এম রফিকুল ইসলাম, মেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অজয় সাহা, সিপিবি উপজেলা কমিটির সভাপতি আলকাছ উদ্দীন মীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন মুকুল, উদীচী সভাপতি শামছুল আলম তালুকদার কবি লোকান্ত শাওন প্রমুখ। ডা: দিবালোক সিংহকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এসব প্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রতিবছর ডা: দিবালোক সিংহ যে আয়োজন করেন এর জন্য ওনাকে ধন্যবাদ জানাই। সেইসাথে সকলকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থেকে দুর্গাপুরের উন্নয়নে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানানো হয়।

খুলনার নলিয়ান থেকে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
খুলনার দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলায় পৌছিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নলিয়ানে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট ও দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা এ জনপদের মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। পরে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান তিনি। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন তারেক রহমান। তাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারপ্রধানের আগমন ঘিরে দুর্গম এ উপকূলীয় জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া রয়েছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নলিয়ানে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। হেলিকপ্টার অবতরণের স্থান বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়। সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড। সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ানে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। মোংলায় সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বন্দরটির জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার। এদিকে, সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে নদীভাঙন রোধ, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানও চান নলিয়ানবাসী। তাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুর্গম উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


