আন্তর্জাতিক: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তিন বছর মেয়াদী (২০২৭–২০২৯) একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পিয়ংইয়ং ও মস্কো। বুধবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) তুর্কি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আনাদোলু এজেন্সির’ (Anadolu Agency) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের ঐতিহাসিক অ্যাসেম্বলি হলে উত্তর কোরিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী কিম চল নাম এবং রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রী আলেকজান্ডার কুরেনকভের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ, পূর্বাভাস প্রদান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং জরুরি মুহূর্তে যৌথ সহায়তার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপমন্ত্রী রি সু গিল এবং পিয়ংইয়ংয়ে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই পোডোলিশেভসহ দুই দেশের একাধিক শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সফররত রুশ প্রতিনিধিদলের সম্মানার্থে পিয়ংইয়ংয়ে এক নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর থেকেই সামরিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক খাতে দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত বেগবান হতে থাকে।
পরবর্তীতে ইউক্রেনীয় সংঘাতের জটিল প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সমর্থনে উত্তর কোরিয়া প্রথমবার সরাসরি সেনা মোতায়েন করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে রাশিয়ার কার্স্ক অঞ্চলে মাইন অপসারণ, ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার ও কৌশলগত অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য ৬ হাজার বিশেষায়িত সামরিক প্রকৌশলী ও নির্মাণকর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে উত্তর কোরিয়া। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এই নতুন চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
