পুজো মিটতেই ফের জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভ দিল্লিতে। শুক্রবার দুপুরে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিল একাধিক সংগঠন। কালীবাড়ি মার্গ এবং ভাই বীরসিংব মার্গের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে মিছিল শুরু হয়। গন্তব্য ছিল নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদন। তার আগেই অবশ্য মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। নির্বাচন সদনে যাওয়ার পথে একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে গাড়িতে তুলেছে পুলিশ।
শুক্রবারের এই মিছিলের ডাক দিয়েছিল নাগরিক মঞ্চ ‘দিল্লি কোঅর্ডিনেশন কমিটি অফ পিপল এগেনস্ট এসআইআর’। ক্রান্তিকারী যুব সংগঠন, সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই ছাড়াও একাধিক সংগঠন এই মিছিলে শামিল হয়। মিছিলে ছিলেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, সমাজসৈনিক যোগেন্দ্র যাদব। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে যোগেন্দ্র লেখেন, “জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই। এসআইআর বাতিল হোক। ২০২৩ সালের় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিল হোক।”
মিছিল শুরুর আগে দুপুর ২টো নাগাদ বিক্ষোভকারীরা দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের সামনে জমায়েত করেছিলেন। তার কিছু আগেই ট্রাফিক পুলিশের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কনট প্লেস, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা চত্বরে না-যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাতে সময় নিয়ে বেরোতে বলা হয় পথচারী এবং গাড়িচালকদের।
উৎসবের মরসুম পুরোপুরি মিটলে জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভের ঝাঁঝ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। সে কথা মাথায় রেখে আপাতত আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২৭৩ কোম্পানি সশস্ত্র পুলিশ (সিএপিএফ) দিল্লিতে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা পিটিআই। অন্য দিকে, শুক্রবারই এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের জন্য নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবিতে বিল পাস করিয়েছে পঞ্জাবের আপ সরকার। জ্ঞানেশের ইস্তফা চেয়ে এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে সুর চড়িয়েছে তামিলনাড়ুর শাসকদল ‘তলপতি’ বিজয়ের টিভিকে-ও। শুক্রবার তারা তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ডাকা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
